বিশেষ: ‘উবে’ যাচ্ছে দেশের মানুষ, হতাশা থেকে পালিয়ে কোথায় যাচ্ছে জাপানের মানুষ?

জাপানে এক অদ্ভুত প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে – মানুষ আচমকা নিজের জীবন থেকে গাౘপ করে উধাও হয়ে যাচ্ছে। এই ঘটনাকে জাপানি ভাষায় ‘জোহাৎসু’ বলা হয়। কোনও হদিশ না রেখে নিজেকে লুকিয়ে ফেলা, এটাই জোহাৎসুর মূল বৈশিষ্ট্য।
এই প্রবণতাটি কিন্তু নতুন নয়। তবে সম্প্রতি ফরাসি সাংবাদিক লেনা মাউগের দাবি, জাপানে জোহাৎসুর ঘটনা ব্যাপক হারে বেড়েছে। তিনি এই বিষয়ে একটি বইও লিখেছেন। তাঁর মতে, প্রতি বছর প্রায় ৮০,০০০ জাপানি সামাজিক বিচ্ছিন্নতা বেছে নিচ্ছে।
জাপানের কঠোর গোপনীয়তা আইনের কারণে এই ধরনের ঘটনার সঠিক সংখ্যা জানা কঠিন। অনেকেই ঝামেলা এড়াতে ‘মিসিং’ রিপোর্ট করেন না। তাই আসল সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।
উইকিপিডিয়া অনুযায়ী, জোহাৎসু শুধু জাপানেই নয়, আমেরিকা, চিন, দক্ষিণ কোরিয়া, ব্রিটেন, জার্মানি সহ বিভিন্ন দেশেই দেখা যায়। তবে জাপানে এই প্রবণতা বিংশ শতাব্দীর ছয়ের দশকে থেকেই বেশি লক্ষ্য করা যায়।
প্রথমদিকে মূলত বিয়েতে অসুখী মানুষরা এই পথ বেছে নিত। পরে চাকরি হারানো বা অন্যান্য ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে মানুষ জোহাৎসু বেছে নিতে শুরু করে। আজকাল জাপানে আত্মহত্যার চেয়ে জোহাৎসু বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
লেনা মাউগের মতে, হতাশা, নেশা, যৌন সমস্যা বা অন্যান্য ব্যক্তিগত সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে অনেকে জোহাৎসু বেছে নেয়। জাপানে এই ধরনের সমস্যা নিয়ে কথা বলতে লোকেরা অস্বস্তি বোধ করে। তাই তারা নিজেকে লুকিয়ে ফেলাকেই সহজ মনে করে।
এই বিষয়টি নিয়ে একটি চলচ্চিত্রও নির্মিত হচ্ছে যার নাম ‘জোহাৎসু: ইনটু থিন এয়ার’। এই চলচ্চিত্রে নরিহিরো নামে এক যুবকের গল্প দেখানো হবে, যিনি চাকরি হারানোর পর জোহাৎসু বেছে নিয়েছিল।