বিশেষ: দিন দিন বাড়ছে কোচিং সেন্টার, কয়েক হাজার কোটি ইনকাম হচ্ছে কেন্দ্রের

দিল্লির ওল্ড রাজেন্দ্রনগরে একটি ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে যেখানে তিনজন ছাত্রছাত্রী একটি ইউপিএসসি কোচিং সেন্টারের বেসমেন্টে ডুবে মারা গেছেন। এই ঘটনা সামনে আসার পর দেশের কোচিং সেন্টারগুলোর অবস্থা এবং তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

কোচিং সেন্টারের বাড়বাড়ন্ত:

বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য কোচিং সেন্টারের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এই সেন্টারগুলো থেকে প্রচুর পরিমাণে টাকা আয় হচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকারের জিএসটি আয়ের পরিসংখ্যান থেকে এই বিষয়টি স্পষ্ট।২০১৯-’২০ অর্থবর্ষে যেখানে দেশের কোচিং সেন্টারগুলো কেন্দ্রের জিএসটি বাবদ আয় হয়েছিল ২২৪০.৭৩ কোটি টাকা, মাত্র চার বছরের মধ্যে তা দ্বিগুণের বেশি হয়েছে! ২০২৩-’২৪ সালে কোচিং সেন্টারগুলো থেকে ১৮ শতাংশ হারে জিএসটি আদায় করে কেন্দ্রের আয় হয়েছে ৫৫১৭.৪৫ কোটি টাকা।

অনেক কোচিং সেন্টারেই পরিকাঠামো ও নিরাপত্তার অভাব রয়েছে। দিল্লির ঘটনা তার একটি জ্বলন্ত উদাহরণ। অনেক কোচিং সেন্টার ট্যাক্স চুরি করে এবং নগদ লেনদেনের মাধ্যমে আয় লুকিয়ে রাখে।

সরকারের দায়িত্ব:

সরকার এই কোচিং সেন্টারগুলোর উপর যথাযথ নজর রাখতে ব্যর্থ হয়েছে।সরকার একটি গাইডলাইন জারি করেছে যদিও বিরোধীরা দাবি করছেন যে এটি দিল্লির ঘটনার পর মুখরক্ষার চেষ্টা। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের প্যাটার্ন বদল করার দাবি উঠছে।

শিক্ষাবিদদের মতামত:

শিক্ষাবিদরা মনে করেন যে সরকারি শিক্ষাব্যবস্থায় আস্থা কমে যাওয়ার কারণে ছাত্রছাত্রীরা কোচিং সেন্টারের দিকে ঝুঁকছে।প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের নির্দিষ্ট প্যাটার্ন থাকার কারণে কোচিং সেন্টারের গুরুত্ব বেড়েছে।শিক্ষকদের আরও দায়িত্বশীল হওয়া জরুরি।

দিল্লির ঘটনা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে দেশের কোচিং সেন্টারগুলোতে নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচিত হয় না। সরকারকে এই সমস্যা সমাধানের জন্য কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। পাশাপাশি, শিক্ষাব্যবস্থায় সংস্কার করে কোচিং সেন্টারের উপর নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা করতে হবে।