বিশেষ: ৩০ বছর পর প্রকাশ্যে এলো সত্যি, করিশ্মার সঙ্গে ঝগড়া নিয়ে মুখ খুললেন রবিনার

নব্বইয়ের দশকের বলিউডে রবিনা ট্যান্ডন এবং করিশমা কাপুরের মধ্যে ক্যাটফাইটের গুজব বহুদিন ধরে চলে আসছে। এই ধরনের গুজব কেন ছড়ায় এবং কীভাবে এটি বলিউডের সংস্কৃতির একটি অংশ হয়ে উঠেছিল, তা একবার বিশ্লেষণ করা যাক।

মিডিয়ার ভূমিকা:

সবচেয়ে বড় কারণ হল মিডিয়া। নব্বইয়ের দশকে সোশ্যাল মিডিয়া না থাকায় গণমাধ্যমই ছিল একমাত্র খবরের উৎস। মিডিয়া হেডলাইন তৈরি করতে এবং বিক্রি বাড়াতে নায়িকাদের মধ্যে দ্বন্দ্বের গল্পকে ফুটিয়ে তুলত। এই ধরনের গুজব পাঠকদের আকর্ষণ করত এবং তাদের মধ্যে আগ্রহ জাগাত।

পুরুষকেন্দ্রিক শিল্প:

বলিউড সবসময়ই পুরুষকেন্দ্রিক হয়ে আসছে। নায়িকাদেরকে প্রায়শই প্রতিযোগিতার মধ্যে ফেলা হত। নায়িকাদের মধ্যে ক্যাটফাইটের গুজব ছড়িয়ে দেওয়া হত যাতে পুরুষ নায়কদের জনপ্রিয়তা বাড়ানো যায়।

সামাজিক ধারণা:

সমাজে নারীদের নিয়ে যে ধারণা রয়েছে, তাও এই ধরনের গুজব ছড়ানোর পিছনে একটি কারণ। নারীদেরকে প্রতিযোগিতাপরায়ণ এবং ঈর্ষান্বিত হিসাবে দেখার প্রবণতা রয়েছে।

রবিনা ট্যান্ডনের দৃষ্টিভঙ্গি:

রবিনা ট্যান্ডন বারবার দাবি করেছেন যে, তাঁর এবং করিশ্মার মধ্যে কোনো দ্বন্দ্ব ছিল না। তিনি বলেছেন যে, এই ধরনের গুজব মিডিয়া তৈরি করেছিল। তিনি আরও বলেছেন যে, তিনি এবং করিশমা অন্য নায়িকাদের সঙ্গে ভাল সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন।

‘ফিল্মফেয়ার’-এ দেওয়া সাক্ষাৎকারে রবিনা ট্যান্ডনকে ‘আতিশ’-এর শুটিং চলাকালিন বিমানবন্দরে মারামারি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তিনি বলেছিলেন, ‘এটা মোটেই ক্যাটফাইট ছিল না। আমি তাই বিশ্বাস করি না। কখনও এটি ক্যাটফাইট নয়। নিজেদের মধ্যে আলোচনা হতে পারে, আপনি কেন এটা করছেন বা এটা করার দরকারই বা কী রয়েছে তা নিয়ে মতানৈক্য থাকতে পারে। কিন্তু, এসব করার কী দরকার? কোনও লড়াই ছিল না। তখন কিছু লোক অতিরঞ্জিত করে বলেছিল। প্রচুর মশলাও ব্যবহার করা হত।

আজকের দিনে:

আজকের দিনে সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে এই ধরনের গুজব ছড়ানো কঠিন হয়ে পড়েছে। নায়িকারা নিজেরাই সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে তাদের জীবনের বিভিন্ন দিক প্রকাশ করতে পারেন এবং এই ধরনের গুজবের জবাব দিতে পারেন।