বিশেষ: ওষুধের সাহায্যে কি মাছের কাঁটা সত্যিই গলানো যায়? জেনেনিন কি বলছে বিশেষজ্ঞরা

মাছ আমাদের দেশের মানুষের খাদ্য তালিকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু মাছ খাওয়ার সময় অনেক সময়ই গলায় কাঁটা বিঁধে যাওয়ার ঝামেলায় পড়তে হয়।

মাছের কাঁটা গলানোর ওষুধ নেই!

ডাঃ দ্বৈপায়ন মুখোপাধ্যায়, কলকাতার এক বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের ইএনটি বিভাগের প্রধান, স্পষ্ট করে বলেছেন যে, মাছের কাঁটা গলানোর কোন ওষুধ নেই।

ডাঃ মুখোপাধ্যায়ের মতে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মাছের কাঁটা গলার কোন নরম অংশে আটকে থাকে। ঢোক গেলার সময় সেই কাঁটা নিজে থেকেই নেমে পেটে চলে যায়।

গলায় কাঁটা লাগলে অনেকেই ভাত, রুটি, কলা ইত্যাদি খেয়ে দেখেন। ডাঃ মুখোপাধ্যায় বলেন, এই টোটকাগুলো কাজ করতে পারে। কারণ, খাবার গিলে ফেলার সময় কাঁটা নেমে যেতে পারে।

কখন ডাক্তারের কাছে যেতে হবে:

যদি কাঁটা না নামে এবং দীর্ঘক্ষণ ধরে অস্বস্তি থাকে।কাঁটা গলায় আটকে থাকার কারণে রক্তপাত, শ্বাসকষ্ট, বা তীব্র ব্যথা হয়।এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে গলায় কাঁটা আটকে থাকে বলে মনে হয়।

কিভাবে কাঁটা বের করা হয়:

এন্ডোস্কোপি: এই পদ্ধতিতে, মুখ দিয়ে একটি পাতলা নল গলায় প্রবেশ করানো হয়। নলের সাথে লাগানো ক্যামেরার মাধ্যমে কাঁটা দেখা যায় এবং বিশেষ যন্ত্র দিয়ে তা বের করে ফেলা হয়।

ফোর্সেপস: এই পদ্ধতিতে, দীর্ঘ হাতলযুক্ত একটি শক্ত যন্ত্র ব্যবহার করে মুখ দিয়ে কাঁটা বের করে ফেলা হয়।
শল্যচিকিৎসা: খুব বিরল ক্ষেত্রে, যদি অন্য পদ্ধতিতে কাঁটা বের করা না যায়, তাহলে শল্যচিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।

মাছের কাঁটা গলায় আটকে গেলে ঘাবিয়ে যাবেন না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কাঁটা নিজে থেকেই নেমে যায়। তবে, দীর্ঘক্ষণ ধরে অস্বস্তি থাকলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

কিছু টিপস:

শান্ত থাকুন: কাঁটা লাগলে ঘাবিয়ে যাবেন না।
ঢোক গিলুন: বারবার ঢোক গেলার চেষ্টা করুন।
ভাত বা কলা খান: মা-ঠাকুমাদের এই ঘরোয়া টোটকাটি কাজে লাগতে পারে।
চিকিৎসকের পরামর্শ নিন: কাঁটা না নেমে যদি দীর্ঘক্ষণ অস্বস্তি থাকে, ব্যথা বাড়ে, বা রক্ত আসে, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
মনে রাখবেন:

কাঁটা গলে না।
অনেক সময় ক্ষত থেকে যাওয়ায় কাঁটা লেগে আছে মনে হতে পারে।গলায় সবসময় কিছু ফুটে থাকার অনুভূতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
নির্দিষ্ট যন্ত্র দিয়ে কাঁটা বের করা যায়।

মাছের কাঁটা গলায় আটকে গেলে ঘাবিয়ে যাবেন না। উপরে উল্লেখিত টিপসগুলো অনুসরণ করুন। দীর্ঘক্ষণ অস্বস্তি থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।