ঘরে লুকিয়ে ছিলেন বুদ্ধদেব! সেই সময় প্রাণরক্ষা করেন ‘কংগ্রেসি গুন্ডা’

সত্তরের দশক, কলকাতায় নকশাল আতঙ্কের ছায়া। তখনকার কংগ্রেস ছাত্রনেতা দেবাশিস সেনের জীবনে একটি ঘটনা ঘটেছিল যা তিনি আজও ভুলতে পারেন না।
বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য যখন নকশালদের হাত থেকে বাঁচার জন্য আত্মগোপন করেছিলেন, তখন স্কটিশ চার্চ কলিজিয়েট স্কুলের এক শিক্ষক দেবাশিসের কাছে সাহায্য চেয়েছিলেন। বুদ্ধদেব তাঁর ছাত্র ছিলেন বলে শিক্ষক তাঁকে খুব ভালবাসতেন। দেবাশিস তখন স্কুলের ছাত্র সংসদের জেনারেল সেক্রেটারি ছিলেন।
সেই সময়ে স্কটিশ চার্চ কলিজিয়েট স্কুলের এক শিক্ষকের অনুরোধে বুদ্ধদেবের প্রাণ বাঁচিয়েছিলেন তৎকালীন ‘কংগ্রেসি গুন্ডা’ হিসেবে পরিচিত দেবাশিস সেন এবং হেমেন মণ্ডল।
দেবাশিস এবং তাঁর সহযোগীরা নকশালদের দখলে থাকা এলাকায় ঢুকে বুদ্ধদেবকে উদ্ধার করেছিলেন। সেই সময় তাঁরা বেশ কিছু ঝুঁকি নিয়েছিলেন। দেবাশিস বলেন, “বুদ্ধবাবু প্রথমে ভয়ে ঘর থেকে বেরোতেই চাইছিলেন না। আমরা অনেক বোঝানোর পর তিনি রাজি হয়েছিলেন।”
হেমেন মণ্ডলের কথায়, ‘তেলিপাড়া লেনে ঢুকলে নকশালরা আমাদের পাল্টা অ্যাটাক করতে পারে, এই ভয়টা ছিল। আমরা অবশ্য প্রস্তুতই ছিলাম। আমাদের সঙ্গে ২০-২৫ জন অ্যাকশনের ছেলে ছিল। বোমা-রাইফেল ছাড়াও ছিল সেনাবাহিনীর গ্রেনেড। পাণ্ডবেশ্বর সেটা ভালো করেই জানত। তাই ওরা আমাদের আটকানোর সাহস পায়নি। পরবর্তীকালে রুনু গুহনিয়োগী (লালবাজারের পুলিশকর্তা) আমাকে বলেছিলেন, তোরা যদি সে দিন উদ্ধার না-করতি, তা হলে বুদ্ধবাবুকে নকশালরা সে দিন প্রাণে মেরে দিত।’
এই ঘটনাটি কেবল একটি উদ্ধারের ঘটনা নয়, এটি সেই সময়ের রাজনৈतिक উত্তেজনার একটি জ্বলন্ত উদাহরণ। দেবাশিস সেন এবং তাঁর সহযোগীরা এই ঘটনার মাধ্যমে মানবতার পরিচয় দিয়েছিলেন।