“টিপ বা তিলক পড়তে কি নিষেধ করেন কখনও?”- হিজাব মামলায় প্রশ্ন করলো সুপ্রিম কোর্ট

মুম্বইয়ের একটি কলেজে হিজাব পরা নিষিদ্ধ করার বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট কঠোর সমালোচনা করেছে। কলেজ কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তকে ‘স্বেচ্ছাচারী’ বলে উল্লেখ করে শীর্ষ আদালত হিজাব নিষিদ্ধ করার নির্দেশিকায় স্থগিতাদেশ জারি করেছে।

কী ঘটেছিল?

মুম্বইয়ের একটি কলেজ হিজাব, নিকাব, বোরখা ইত্যাদি ধর্মীয় পোশাক পরা নিষিদ্ধ করে একটি নিয়ম জারি করে। এই নির্দেশিকার বিরুদ্ধে একাধিক ছাত্রী আদালতে যান।

সুপ্রিম কোর্টের মন্তব্য:

ধর্মীয় স্বাধীনতা: সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, এই নিষেধাজ্ঞা ছাত্রীদের ধর্মীয় স্বাধীনতার লঙ্ঘন করে।
স্বেচ্ছাচারী সিদ্ধান্ত: আদালত কলেজ কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তকে স্বেচ্ছাচারী বলে উল্লেখ করেছে।
বৈষম্য: কলেজ কর্তৃপক্ষের যুক্তি ছিল, এই নিষেধাজ্ঞা সবার জন্য। কিন্তু আদালত বলেছে, এই নিষেধাজ্ঞা মূলত মুসলিম ছাত্রীদের লক্ষ্য করে করা হয়েছে।

শুনানিতে ডিভিশন বেঞ্চ প্রশ্ন করেছে, ‘আপনারা কি মহিলাদের টিপ বা তিলক পরতে নিষেধ করেন?’ কলেজ কর্তৃপক্ষের যুক্তি হল, কারও ধর্ম যাতে সামনে না আসে, তার জন্য এই নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে।

সেখানে বিচারপতির প্রশ্ন, ‘ওদের নামে ধর্ম প্রকাশ পাবে না? আপনারা কি ওদের নম্বর দিয়ে চিহ্নিত করবেন?’

কলেজের যুক্তি:

কলেজ কর্তৃপক্ষের দাবি, এই নিষেধাজ্ঞা শুধুমাত্র কয়েকজন ছাত্রীর কারণে করা হয়েছে এবং বেশিরভাগ ছাত্রীই এই নিষেধাজ্ঞার বিরোধী নয়।

আদালতের সিদ্ধান্ত:

সুপ্রিম কোর্ট কলেজের এই যুক্তি গ্রহণ করেনি। আদালত বলেছে, একজন মহিলা কী পরবে তা তার নিজের বিষয়। কলেজ কর্তৃপক্ষ তার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারে না। তবে আদালত মুখ ঢাকা পোশাক পরে ক্লাসে যাওয়া যাবে না বলে মন্তব্য করেছে।

সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্ত ধর্মীয় স্বাধীনতার পক্ষে একটি বড় জয়। এই সিদ্ধান্তের ফলে অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকেও ছাত্রছাত্রীদের ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রতি সম্মান দেখাতে বাধ্য করা হবে।