“কিছু স্কাউন্ড্রেল রাজনীতিতেও দরকার”- বলতেন বুদ্ধদেব, স্মৃতিচারণা করলেন রুদ্রপ্রসাদ

দীর্ঘদিনের অসুস্থতার পর পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য আর নেই। তার দেহদানের ইচ্ছা অনুযায়ী, তার দেহ নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়া হয়। রাজ্যবাসী শোকসাগরে নিমজ্জিত হয়েছে এই বিদায়ে।
রাজনীতি ও সংস্কৃতি:
বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে একজন সংস্কৃতিমনস্ক ব্যক্তি হিসেবেই বেশি মনে রাখা হয়। নাট্য ব্যক্তিত্ব রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্তের মতে, বুদ্ধদেব রাজনীতির চেয়ে সংস্কৃতির জগতেই বেশি সফল হতে পারতেন। তিনি বলেন, “বুদ্ধবাবুর চলে যাওয়াটা আমার ব্যক্তিগত লস। আমরা একপাড়ার বাসিন্দা ছিলাম শ্যামপুকুরের। পথ চলতে গিয়ে প্রায়ই দেখা হত, উনি যে কখন আমাকে দাদা বলেছেন, আর আমি বুদ্ধদেব মনেও নেই আজকে দাঁড়িয়ে”।
রাজনীতি নিয়ে মতভেদ:
রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্ত এবং বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের মধ্যে রাজনীতি নিয়ে প্রায়ই তর্ক-বিতর্ক হত। রুদ্রপ্রসাদ প্রায়ই বুদ্ধদেবকে স্যামুয়েল জনসনের একটা উক্তি শোনাতেন- ‘পলিটিক্স ইজ দ্য লাস্ট রিসর্ট অফ এ স্কাউন্ড্রেল’। এই কথা শুনলে মুচকি হেসে বুদ্ধদেব একটাই জবাব দিতেন, ‘সমাজে প্রচুর স্কাউন্ড্রেল থাকে, কিছু স্কাউন্ড্রেল রাজনীতিতেও দরকার’।
শেষ বিদায়:
আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে মানুষের ঢল নেমেছিল। রাজ্য সরকারের তরফে গান স্যালুট না দেওয়ায় বিতর্কের সৃষ্টি হলেও, হাজারো মানুষের চোখের জলে তিনি বিদায় নিলেন।
বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য কেবল একজন রাজনীতিবিদ ছিলেন তা নয়, তিনি ছিলেন একজন সংস্কৃতিমনস্ক ব্যক্তি। তার মৃত্যুতে রাজ্যবাসী শোকাহত হয়েছে। তাঁর অবদান স্মরণ রেখে, রাজ্যের মানুষ তাঁকে শেষ বিদায় জানিয়েছে।