“কুমড়ো ফুলের বড়া পেলেই হতেন মহা খুশি”-জেনেনিন বুদ্ধবাবুর কী কী ছিল পছন্দের খাবার?

বাংলার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের রাজনৈতিক জীবন যতটা তীব্র ছিল, তাঁর ব্যক্তিগত জীবন ততটা সাদামাটা। বিশেষ করে, তাঁর খাওয়ার অভ্যাস ছিল খুবই সহজ-সরল।
কুমড়ো ফুলের বড়ার প্রেম:
বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের খাবারের তালিকায় সবচেয়ে উপরে ছিল কুমড়ো ফুলের বড়া। জেলা সফরে গেলে তিনি খোঁজ নিতেন কীভাবে এই স্বাদিষ্ট খাবারটি তৈরি করা হয়। গ্রামবাংলায় তৈরি এই বড়ার স্বাদ তাঁর কাছে অনন্য ছিল।
সাদামাটা বাঙালি খাবারের প্রেমিক:
বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য চিনা, কন্টিনেন্টাল বা মোগলাই খাবারের চেয়ে বাঙালি খাবারকেই বেশি পছন্দ করতেন। মাছের ঝোল, ভাত, শাকসবজি— এই সবই ছিল তাঁর প্রিয় খাবার। তিনি মাছের প্রতি বিশেষভাবে আকৃষ্ট ছিলেন।
ইলিশ মাছের গল্প:
একবার সুভাষ চক্রবর্তী তাঁকে একটি পদ্মা ইলিশ দিয়েছিলেন। বুদ্ধদেব তা কয়েকদিন ধরে খেয়েছিলেন, প্রতিদিন ভিন্ন ভিন্ন রান্না করে।
হাঁসের ডিমের ঝোলের প্রেম:
হাঁসের ডিমের ঝোল ছিল বুদ্ধদেবের আর একটি প্রিয় খাবার। তিনি দুটি হাঁসের ডিমের ঝোল খেতে খুবই ভালোবাসতেন।
সরল জীবন:
মুখ্যমন্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য খুবই সরল জীবনযাপন করতেন। তিনি বাড়িতে তৈরি খাবারই বেশি পছন্দ করতেন এবং বাইরে খেতে খুব একটা যেতেন না। কখনও কখনও তিনি নিউ মার্কেটের একটি পুরোনো মোগলাই রেস্তোরাঁয় কাবাব খেতে যেতেন।
সিগারেটের প্রতি আসক্তি:
বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য দীর্ঘদিন ধরে সিগারেট খেতেন। অসুস্থ হওয়ার পরেও তিনি সিগারেট খাওয়া কমাতে পারেননি।
বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের খাবারের পছন্দ থেকে বোঝা যায় যে, তিনি একজন সরল এবং সাধারণ মানুষ ছিলেন। তিনি রাজনীতির ব্যস্ততার মাঝেও নিজের স্বাদের প্রতি বিশ্বস্ত ছিলেন।