“আমার বাড়ি থেকেই চুরি যায় বুদ্ধদার সেই পাঞ্জাবি”- জেনেনিন কার বাড়ির ঘটনা?

“বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে নিয়ে যতই বলি না কেন, কমই বলা হবে। এমন একজন সাদাসিধে মানুষ, অথচ সবদিক থেকেই অসাধারণ। সবসময় সহকর্মীদের উৎসাহ দিতেন। বক্তৃতায় কখনো কটুক্তি করতেন না। উত্তরবঙ্গ এবং এখানকার মানুষদের প্রতি তাঁর ছিল অগাধ ভালোবাসা। গোর্খাল্যান্ড আন্দোলনের সময় তিনিই প্রথম বলেছিলেন যে, রক্তপাতে সমাধান হবে না। রাজনৈতিক এবং আদর্শগতভাবে লড়াই করতে হবে।

আমার সঙ্গে তাঁর প্রথম পরিচয় ১৯৬৮ সালে কলকাতায় যুব ফেডারেশনের সম্মেলনে। পরে শিলিগুড়িতে এলে আমার বাড়িতে থাকতেন। তথ্য সংস্কৃতি দপ্তরের মন্ত্রী হয়ে রাজ্যে সুস্থ সংস্কৃতির পক্ষে আন্দোলন গড়ে তোলেন। আমি যখন মন্ত্রী হলাম তখন দেখলাম, সহকর্মীদের তিনি অত্যন্ত স্বাধীনতা দিতেন।

বুদ্ধদেববাবুর সবচেয়ে বড় গুণ ছিল রাজনৈতিক সততা। কারও সম্পর্কে খারাপ কথা বলতেন না। উত্তরবঙ্গের প্রতি তাঁর ভালোবাসা আমায় সবসময় কাজ করার উৎসাহ দিয়েছে। অত্যন্ত সাদাসিধে জীবন ছিল তাঁর। কলকাতায় যাওয়ার সময়ে কিছু কমলালেবু নিয়ে আসতে বলতেন, জলপাইগুড়িতে গেলে বোরোলি মাছ খেতে চাইতেন।

একবার আমাদের বাড়িতে এসে রাতে তাঁর পাঞ্জাবি চুরি হয়ে যায়। পরদিন সকালে আমার একটা পাঞ্জাবি পরে উনি কলকাতায় ফেরেন। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়েরও আমার মাধ্যমেই বুদ্ধদেববাবুর সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল।”

– অশোক ভট্টাচার্য (প্রাক্তন মন্ত্রী)