“হাতটা ঘষা লেগে রক্ত বার হয়…”-বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের প্রয়াণে শোকে কাতর মমতা

বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের জীবনাবসানে উদ্বেগ চেপে রাখতে পারেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আচমকা এই দুঃসংবাদে হৃদয়বিদারক এক দৃশ্যের সাক্ষী হল রাজ্য। আচমকা এই দুঃসংবাদে হাত ঘষে যায়, রক্তও বার হয়। ব্যান্ডেজ বেঁধেই তিনি ছুটে যান বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের পাম অ্যাভিনিউয়ের বাড়িতে। স্মৃতিতে বহু টুকরো চিত্র। ভারাক্রান্ত গলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বললেন, “অনেক কথা আজ বলব না। আজ তাঁর পরিবার-পরিজনের পাশে থাকার দিন”। লাল,সবুজ রাজনীতি, আন্দোলনের বাইরে এ এক অন্য ক্ষণ। প্রতিপক্ষকে চিরতরে হারানোর কঠিন মুহূর্ত।

বৃহস্পতির দুপুরে দেশের একমাত্র মহিলা মুখ্যমন্ত্রীর কণ্ঠ ভারাক্রান্ত। তিনি পাম অ্যাভিনিউয়ে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের বাড়িতে যান। ভারী গলায় বলেন, ‘বুদ্ধবাবু সুস্থ থাকা অবস্থায় যতদিন এসেছি অনেক গল্প করেছি। আজ সেই কথা বলব না।’

একবার এক বৈঠকের মাঝে হঠাৎ গোপালকৃষ্ণ গান্ধী প্রশ্ন ছিল দুই রাজনীতিকের দিকে, ‘ভরা থাক্‌ স্মৃতিসুধায় বিদায়ের পাত্রখানি… অন্তরাটা বল তো?’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘সেই সময় আমরা দুই জনেই ছিলাম। আমি বলেছিলাম যে পথে যেতে হবে সে পথে তুমি একা–নয়নে আঁধার রবে, ধেয়ানে আলোকরেখা এই স্মৃতিগুলো মনে পড়ে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাবরি মসজিদ ধ্বংসের সময় আমি মহাকরণে গিয়েছিলাম। বলেছিলাম, যদি কোনও কাজে আমি লাগি আমাকে জানাবেন…’।