“বাংলাদেশে মন্দির ও সংখ্যালঘুদের উপর আক্রমণ হচ্ছে, যা উদ্বেগের”- জানালেন বিদেশমন্ত্রী

বাংলাদেশে এই মুহূর্তে চলছে অশান্তির পরিবেশ। দেশের প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করে দেশ ত্যাগ করায় এই মুহূর্তে দেশে নেই কোনো আইনের শাসন। আর সেই সুযোগে সংখ্যালঘুদের উপর বেশি হামলা চালানো হচ্ছে।
এদিন রাজ্যসভায় বাংলাদেশ নিয়ে বিবৃতি দিয়ে গিয়ে বিদেশমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ আমাদের খুব কাছের। জানুয়ারি মাস থেকে সেখানে উত্তেজনা রয়েছে। জুন-জুলাইয়ে হিংসা শুরু হয়। সেখানকার রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে আমরা নিয়মিত যোগায়োগ রেখেছিলাম। কোটা ব্যবস্থা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরও বাংলাদেশে পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। শেখ হাসিনাকে ইস্তফা দিতে হল। ৪ অগস্ট পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। অধিকাংশ হামলা চালানো হয়েছে সংখ্যালঘুদের উপর, যা উদ্বেগের।’
পরে লোকসভাতেও বিবৃতি দিতে গিয়ে বিদেশমন্ত্রী বলেন, ‘মন্দির, সংখ্যালঘুদের দোকানে হামলা চালানো হচ্ছে, যা উদ্বেগের।’
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে সাম্প্রতিক অস্থিরতার জেরে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে উত্তেজনা বিরাজ করছে। সোমবার, পেট্রাপোল সীমান্তে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে, যার ফলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য এবং যাতায়াত ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে।
সোমবার সকালে কিছু পণ্যবাহী ট্রাক বাংলাদেশে প্রবেশ করলেও দুপুরের পর থেকে সব ধরনের বাণিজ্যিক কার্যকলাপ বন্ধ হয়ে যায়। স্থলবন্দর সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশে অবস্থিত গোডাউনগুলি পণ্যে ভরে উঠেছে কিন্তু অস্থিরতার কারণে ব্যবসায়ীরা সেগুলি সংগ্রহ করতে পারছেন না।
পদ্মার ইলিশের আনাগোনাও প্রভাবিত:
বর্ষাকালে পদ্মা নদীতে ইলিশ মাছ ধরা একটি গুরুত্বপূর্ণ কার্যকলাপ। কিন্তু সীমান্তে উদ্ভূত এই পরিস্থিতির ফলে ইলিশ মাছের আনাগোনাও প্রভাবিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
অন্যান্য সীমান্তেও একই চিত্র:
পেট্রাপোল ছাড়াও রাজ্যের অন্যান্য সীমান্তগুলিতেও একই ধরনের পরিস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বসিরহাটের ঘোজাডাঙা সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং সুন্দরবনের টি জংশনে ভাসমান বিওপিতে বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।