“‘সরি মাম্মি, পাপা….” -তিন পাতার সুইসাইড নোটলিখে আত্মঘাতী UPSC পরীক্ষার্থী

দিল্লির রাজেন্দ্র নগর, যা ইউপিএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য একটি জনপ্রিয় কোচিং হাব, আবারও মৃত্যুর খবরে জড়িয়ে পড়েছে। এর আগে, কোচিং সেন্টারের বেসমেন্টে জল জমে একজন পড়ুয়া মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। এবার, একজন ইউপিএসসি অ্যাসপিরেন্টের আত্মহত্যার ঘটনা এই এলাকাকে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এনেছে।
মহারাষ্ট্র থেকে আসা অঞ্জলি দিল্লিতে সিভিল সার্ভিসের কোচিং নিচ্ছিলেন। গত ২১ জুলাই তাঁর দেহ উদ্ধার হয় এবং তাঁর তিন পাতার সুইসাইড নোট পাওয়া যায়। নোটে তিনি তাঁর বাবা-মায়ের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন এবং অঙ্গদানের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তাঁর অবসাদের কথা উল্লেখ করে তিনি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার চাপ এবং বেকারত্বের সমস্যা সম্পর্কেও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
চিঠিতে অঞ্জলি লিখেছেন, ‘সরি মাম্মি, পাপা…জীবন নিয়ে আমি হতাশ। শুধুই সমস্যা, একটুও শান্তি নেই। তথাকথিত ডিপ্রেশন থেকে মুক্তি পেতে যা করা সম্ভব, সব চেষ্টা করেছি, কিন্তু অবসাদ কমেনি। ডাক্তারের কাছেও গিয়েছি, কিন্তু মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি হয়নি। আমার একমাত্র স্বপ্ন ছিল, প্রথম বারের চেষ্টায় ইউপিএসসি ক্লিয়ার করা, তা না পারায় আমার মানসিক স্থিতি নষ্ট হয়ে গিয়েছে। তোমরা দু’জনে, সকলে আমাকে সাপোর্ট করেছো, কিন্তু আমার মন সুস্থ হয়নি। নিজেকে খুব অসহায় লাগছে, তাই খুশি মনেই চলে যেতে চাই, শান্তিতে থাকতে চাই।’
অঞ্জলির সুইসাইড নোটে লিখেছেন, ‘আমার মৃত্যুর খবরটা ব্রেকিং নিউজ় হবে, সেটা জানি। তাই সরকারের কাছে অনুরোধ, আমাদের দেশে স্বেচ্ছামৃত্যুর অনুমতি দেওয়া হোক। আমি জানি, সুইসাইড কোনও সমস্যার সমাধান নয়, কিন্তু অনেকেই স্বেচ্ছায় শান্তির জীবন বেছে নিতে চান। আর দয়া করে সরকারি পরীক্ষাগুলোয় দুর্নীতি কমান, আরও কর্মসংস্থান তৈরি করুন। মাত্র কয়েকটা চাকরির জন্য কতশত তরুণ লড়ে যাচ্ছেন…এদিকে, পিজি আর হস্টেলের ভাড়াও কম করা উচিত। এই লোকগুলো পড়ুয়াদের থেকে টাকা লুট করে চলেছে…সব পড়ুয়াদের তা দেওয়ার মতো সামর্থ্য থাকে না…’