বিশেষ: ইরান-ইসরায়েল পূর্ণমাত্রায় সংঘাত কি অনিবার্য? কি বলছে বর্তমান পরিস্থিতি?

ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামাসের প্রধান ইসমাইল হানিয়ে ইসরায়েলি হামলায় ‘নিহত’ হয়েছেন বলে জানিয়েছে সংগঠনটি। বুধবার এক বিবৃতিতে হামাস জানায়, ইরানের রাজধানী তেহরানে তার বাসস্থানে ‘জায়নবাদী গুপ্ত হামলা’ এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে তারা।
হামাস বলছে, মঙ্গলবার ইরানের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশ নেয়ার পর তাকে হত্যা করা হয়।
এখন প্রশ্ন উঠছে, রাজধানীর বুকে রাষ্ট্রীয় অতিথি নিহত হওয়ার জবাবে কী পদক্ষেপ নেবে ইরান? তারা কি আবারো ইসরায়েলে হামলা চালাবে?
এ ব্যাপারে আল-জাজিরার সংবাদদাতা আলী হাশেম লিখেছেন, ইরানের মাটিতে ইসমাইল হানিয়া নামে একজন রাষ্ট্রীয় অতিথিকে হত্যা করা হয়েছে। এই মুহূর্তে বড় প্রশ্ন হলো, ইরান এবার কী করবে? পুরো অঞ্চলেই এর বড় প্রভাব পড়তে পারে। এর অর্থ হতে পারে, ইসরায়েলের ওপর ইরানের হামলা। তবে তারপরে কী হবে, তা আমি বলতে পারছি না।
যদিও গত ১৩ এপ্রিল রাতে ইরানের ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের ৯৯ শতাংশই ভূপাতিত করার দাবি করে ইসরায়েল ও এর মিত্ররা। তবে প্রতিরোধ দেওয়াল ভেদ করে কিছু ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দক্ষিণ ইসরায়েলের নেভাতিম বিমানঘাঁটিতে আঘাত হানে। এতে ‘সামান্য ক্ষয়ক্ষতি’র খবর দিয়েছিল ইসরায়েলের সশস্ত্র বাহিনী (আইডিএফ)।
সে সময় ইরান যে এভাবে হামলা করবে, তা আগে থেকেই জানতো ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। তারপরও, ইরানের নজিরবিহীন সামরিক পদক্ষেপ ছিল মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
হামলার পরপরই ইরান ঘোষণা দিয়েছিল, এর প্রতিশোধ নেওয়ার চেষ্টা করলে আরও বড় আক্রমণ করবে তেহরান। অন্যথায়, যুদ্ধ ওখানেই শেষ। এই লড়াই থেকে যুক্তরাষ্ট্রসহ ইসরায়েলের অন্য মিত্রদের দূরে থাকার ব্যাপারেও সতর্ক করেছিল ইরান।
তবে সেই ঘটনার তিন মাস যেতে না যেতেই আবারো ইরানের সার্বভৌমত্বকে হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে ইসরায়েল। ফলে প্রশ্ন জাগছে, এখন কীভাবে এর প্রতিক্রিয়া দেখাবে তেহরান?