ইতিহাসের আজকের দিনের গুরুত্বপূর্ণ কিছু উল্লেখনীয় ঘটনা (২৯ জুলাই)

আজকের দিনটি সময়ের হিসাবে অতি অল্প সময়। আবার একটি ঘটনার জন্য যথেষ্ট সময়। ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায় বছরের প্রতিটি দিনেই ঘটেছে নানা উল্লেখযোগ্য ঘটনা। অনেকের আজ জন্মবার্ষিকী আবার কেউ মৃত্যুবরণ করেছিলেন এই দিনেই। চলুন এক নজরে দেখে নেয়া যাক আজকের দিনের ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য কিছু বিষয়-

ইতিহাসের পাতায় আজকের দিনটি:

ঘটনাবলি:
১৮৫১- অ্যানেবেল দ্য গ্যাসপ্যারিস ১৫ ইউনোমিয়া অ্যাস্টরয়েড আবিষ্কার করেন।
১৮৭৬- ডা মহেন্দ্রলাল সরকার উচ্চ শিক্ষার জাতীয় প্রতিষ্ঠান ও বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্র ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য কালটিভেশন অব সাইন্স কলকাতায় প্রতিষ্ঠা করেন।
১৯২১- এডলফ হিটলার জার্মানির জাতীয় সমাজতান্ত্রিক ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা নির্বাচিত হোন।
২০১৮- জাবালে নূর পরিবহনের দুইটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে জিল্লুর রহমান ফ্লাইওভারের ঢালে রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থীর ওপর তুলে দেয়। এতে ৯ জন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হন। আহতদের মধ্যে রমিজউদ্দিন কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী দিয়া খানম মিম (১৬) ও দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আব্দুল করিম রাজিব (১৭) বাসের নীচে পিষ্ট হয়ে মারা যান।

জন্ম:
১৮৬৯- মার্কিন ঔপন্যাসিক ও নাট্যকার বুথ টার্কিংটন।
১৮৮৩- দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ কালে ইতালির সর্বাধিনায়ক বেনিতো মুসোলিনি।
১৮৮৮- বাঙালি লেখক ও চলচ্চিত্র পরিচালক দীনেশরঞ্জন দাশ।
১৯০৪- ভারতীয় শিল্পপতি জাহাঙ্গীর রতনজী দাদাভাই টাটা।

মৃত্যু:
১৮৯০- ওলন্দাজ চিত্রকর ভিনসেন্ট ভ্যান গখ। ১৮৫৩ সালে নেদারল্যান্ডের বেরাইড শহরের কাছে গ্রুট জুন্ডার্থ নামে একটি ছোট গ্রামের একটি উচ্চ মধ্যবিত্ত পরিবারে তার জন্ম। রুক্ষ সৌন্দর্যের এবং আবেগময় সততার প্রকাশ, সপ্রতিভ রং এর ব্যবহারের কারণে তার কাজ বিখ্যাত ছিল যা বিংশ শতাব্দীর শিল্পকলায় সুদূরপ্রসারি প্রভাব রেখেছিলো। তিনি ছোট বয়স থেকেই আঁকাআঁকি শুরু করেন। কিন্তু মধ্য বিশের পরে তিনি চিত্রকর্ম আঁকা শুরু করেন অসংখ্য বিখ্যাত চিত্রকর্ম তার জীবনের শেষ দুই বছরে আঁকা। প্রতিকৃতি, প্রাকৃতিক দৃশ্য, সূর্যমুখী ফুল, গমের ক্ষেত ইত্যাদি তার আঁকার বিষয়বস্তুর মধ্যে ছিল। মাত্র এক দশকে তিনি ২,১০০-এর বেশি চিত্রকর্ম আঁকেন, যার মাঝে ৮৬০টি তৈলচিত্র এবং ১,৩০০-এর বেশি জল রং, অঙ্কন, নকশা এবং চিত্র ছিল। দীর্ঘ বিষন্নতা ও মানসিক অসুস্থতার ফলে তিনি মাত্র ৩৭ বছর বয়সে আত্মহত্যা করেন।

১৮৯১- ঊনিশ শতকের বিশিষ্ট বাঙালি শিক্ষাবিদ, সমাজ সংস্কারক ও গদ্যকার ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। ব্রিটিশ ভারতের বাংলা প্রেসিডেন্সির বীরসিংহ গ্রামে জন্ম তার। পুরো নাম ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় শর্মা। সংস্কৃত ভাষা ও সাহিত্যে অগাধ পাণ্ডিত্যের জন্য সংস্কৃত কলেজ থেকে ১৮৩৯ সালে তিনি বিদ্যাসাগর উপাধি লাভ করেন। সংস্কৃত ছাড়াও বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় বিশেষ ব্যুৎপত্তি ছিল তার। তিনিই প্রথম বাংলা লিপি সংস্কার করে তাকে যুক্তিবহ ও সহজপাঠ্য করে তোলেন। বাংলা গদ্যের প্রথম সার্থক রূপকার তিনিই। তিনি রচনা করেছেন যুগান্তকারী শিশুপাঠ্য বর্ণপরিচয়-সহ একাধিক পাঠ্যপুস্তক, সংস্কৃত ব্যাকরণ গ্রন্থ। তিনি ছিলেন একজন সমাজ সংস্কারকও। বিধবা বিবাহ ও স্ত্রী শিক্ষার প্রচলন, বহুবিবাহ ও বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক অভিশাপ দূরীকরণে তার অক্লান্ত সংগ্রাম আজও স্মরিত হয় যথোচিত শ্রদ্ধার সঙ্গে। ২০০৪ খ্রিষ্টাব্দে বিবিসি বাংলা কর্তৃক পরিচালিত জরিপে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ২০ জন বাঙালির মধ্যে অষ্টম স্থান লাভ করেন।

১৯৬৯- ফার্সি ও উর্দু ভাষার কবি, গল্পকার, গবেষক এবং সমালোচক আন্দলিব সাদা।
২০০৪- বাঙালি নেপথ্য সংগীতশিল্পী প্রতিমা বন্দ্যোপাধ্যায়।
২০১৮- বাঙালি ঔপন্যাসিক এবং গল্পকার রমাপদ চৌধুরী।

দিবস:
বিশ্ব বাঘ দিবস।