স্পুফিং শুরু এবার ককপিট ডেটাতেও, মাঝআকাশে বিপথে চলে যেতে পারে যাত্রী-বিমান?

বাংলায় যার অর্থ ঠকানো, প্রতারণা করা। এই স্পুফিংয়ের শিকার হচ্ছে এখন মাঝ আকাশে উড়ন্ত যাত্রীবিমানও! বিমান পরিবহণের অভিধানে নতুন জন্ম নেওয়া এই শব্দটি পাইলট এবং এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোল (এটিসি) অফিসারদের মনে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে।

কীভাবে কাজ করে স্পুফিং?

ইচ্ছাকৃতভাবে বিমানের উপরে উড়ে যাওয়ার তথ্য বদলে ফেলা হচ্ছে। ককপিটে বসে পাইলট যে তথ্য দেখতে পাচ্ছেন তা আসলে সত্যি নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্পুফিং করে বিমানের উচ্চতা বদলে ফেলা সম্ভব নয়। তবে, বদলে ফেলা সম্ভব তার ল্যাটিটিউড-লঙ্গিটিউড (অক্ষাংশ-দ্রাঘিমাংশ) ডেটা।

স্পুফিংয়ের ফলাফল:

পাইলট ভাবতে পারেন যে তারা ঠিক রুটে নেই, যখন আসলে তারা ঠিক রুটেই আছে।
পাইলট ভুল রুটে চলে যেতে পারেন, যার ফলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়।
এটিসি অফিসাররাও ভুল তথ্য পেয়ে বিভ্রান্ত হতে পারেন।
নিজের নির্ধারিত রুট ছেড়ে অন্য দেশের আকাশসীমাতে বিমান ঢুকে যেতে পারে।

স্পুফিংয়ের ঘটনা:

পশ্চিম এশিয়ার আকাশে বেশ কয়েকটি স্পুফিংয়ের ঘটনা ঘটেছে।
স্পুফিংয়ের কারণে নিরীহ যাত্রীবিমানও শিকার হচ্ছে।
ভারত এখনও স্পুফিংয়ের শিকার হয়নি, তবে জ্যামিংয়ের ঘটনা ঘটেছে।
ভারত সরকারের পদক্ষেপ:

ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল এভিয়েশন (ডিজিসিএ) সচেতনতা শিবির শুরু করছে।
এটিসি অফিসারদের জন্য স্পুফিং ও জ্যামিংয়ের বিপদ এবং মুক্তির উপায় নিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতামত:

মাঝ আকাশে বিমানের অবস্থান জানতে ব্যবহৃত হয় গ্লোবাল নেভিগেশন স্যাটেলাইট সিস্টেম (জিএনএসএস)।
স্পুফিংয়ের ফলে জিএনএসএস-এর তথ্য ভুল হতে পারে।
রেডার কভারেজ ও গ্রাউন্ড বেসড নেভিগেশন ইকুইপমেন্ট নেই এমন এলাকায় স্পুফিংয়ের ঝুঁকি বেশি।
স্পুফিং একটি নতুন হুমকি যা বিমান পরিবহণের নিরাপত্তাকে বিপন্ন করে। ভারত সরকার স্পুফিং মোকাবেলায় পদক্ষেপ নিচ্ছে।