প্রাণ বাঁচাতে ভারতীয় পতাকা হাতে রাস্তায় ভারতীয় ছাত্ররা, ক্রমশ বাড়ছে উদ্বেগ

বাংলাদেশের বিভিন্ন শহরে ব্যাপক আন্দোলন ও সহিংসতার ঘটনায় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজমান। থানা, গাড়ি আগুনে পুড়ছে, পুলিশের সাথে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে নিরাপত্তাহীনতায় আতঙ্কিত হয়ে ভারত ও নেপালের বহু নাগরিক দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছেন।
সীমান্ত পার হচ্ছে ছাত্র, সাধারণ মানুষ:
শিলিগুড়ির ফুলবাড়ি, কোচবিহারের চ্যাংরাবান্ধা ও নদিয়ার গেদে সীমান্ত দিয়ে প্রচুর সংখ্যক মানুষ ফিরছেন।বেশিরভাগই শিক্ষার্থী, যারা আত্মীয়স্বজনের বাড়ি থেকে ফিরে আসছেন।সরাসরি বাস যোগাযোগ বন্ধ থাকায় গ্রামের রাস্তা দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে ফিরছেন অনেকে।টাকার বিনিময়ে বাংলাদেশেরই কিছু লোক তাদের শহর এড়িয়ে সীমান্তে পৌঁছাতে সাহায্য করছে।
উদাহরণ:
ময়নাগুড়ির বাসিন্দা বলরামচন্দ্র বর্মন জুনের ১১ তারিখে ঠাকুরগাঁওয়ের শালবাড়ি এলাকায় গিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘যা পরিস্থিতি তাতে দেশে ফিরতে পারব বলে মনে হচ্ছিল না।’ দিনাজপুরে স্নাতক স্তরের ফার্মাসি পড়ছেন লালন ঠাকুর। তিনি বলেন, ‘কী করব? বন্ধুরা বলছে দেশে ফিরে যেতে। দোকানপাট বন্ধ। রাস্তায় লোক চলাচল নেই। কলেজের শিক্ষকেরা আশ্বস্ত করলেও ভয় লাগছিল।’
আজ সীমান্ত পার হয়ে ফুলবাড়ি শুল্ক দপ্তরের সিঁড়িতে বসে অবসর সময় কাটাচ্ছেন তিনি।
কোচবিহারের পুলিশ সুপার দ্যুতিমান ভট্টাচার্য বলেন, ‘এ দিন যাঁরা এপারে এসেছেন তাঁদের অধিকাংশ পড়ুয়া।’
আশিস অধিকারী বলেন, ‘ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজের ছাত্র আমরা। অশান্তির মধ্যে কী করে বাড়ি ফিরব, তা নিয়ে উদ্বেগে ছিলাম আমরা রাস্তায় ছাত্র পরিচয় দিয়ে শনিবার চ্যাংরাবান্ধা সীমান্ত পর্যন্ত আসতে পেরেছি আমরা। নিরাপদে সীমান্ত পেরিয়ে এখন নিশ্চিত লাগছে।’
আরেক ছাত্র বলেন, ‘এখনও অনেক ছাত্রছাত্রী বন্দি অবস্থায় বিভিন্ন ক্যাম্পাসে রয়ে গিয়েছে। তবে বাংলাদেশের অনেকেই আমাদের ফিরে আসতে সাহায্য করেছেন। আমরা বিপদ আঁচ করে ভারতীয় জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে পথ হেঁটেছি। তাতে অসুবিধে হয়নি।’
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা:
বাংলাদেশ সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য পদক্ষেপ নিচ্ছে।আইনশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।আন্দোলনকারীদের সাথে আলোচনার চেষ্টা চলছে।
ভারত ও নেপাল সরকারের পরামর্শ:
নিজস্ব নাগরিকদের বাংলাদেশে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে ভারত ও নেপাল সরকার।যারা জরুরি ভ্রমণ করবেন তাদের সতর্ক থাকার জন্য বলা হয়েছে।