“রাজনীতিতে রাহুলের পারফরম্যান্স দুর্দান্ত!’ বিরোধী দলনেতাকে দিলেন ‘ফুল মার্কস’ অমর্ত্য সেন

রাহুল গান্ধীর প্রশংসা করেছেন অমর্ত্য সেন। নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ মনে করেন যে কংগ্রেস নেতা এখন আরও পরিণত রাজনীতিবিদ হয়ে উঠেছেন৷ লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর সম্প্রতি দেশে ফিরেছেন অমর্ত্য সেন। এবং তারপরে তিনি দেশের বর্তমান রাজনীতি এবং লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির ফলাফল পর্যালোচনা করেন।
অর্থনীতির এই অধ্যাপক বলেছেন, ‘দেশকে হিন্দু রাষ্ট্র ঘোষণার পরিকল্পনা আপাতত ধাক্কা খেয়েছে।’
অমর্ত্য সেনের কথায়, ‘ভারত জোড়ো কর্মসূচি রাহুল গান্ধীকে জনগণের নেতা হিসাবে অনেকটা তুলে ধরেছে। রাহুলের সামনে এখন গুরুত্বপূর্ণ হল বিরোধী দলনেতা হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করা।’
ভবিষ্যতে রাহুল গান্ধীর প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এই ধরনের ভবিষ্যদ্বাণী করা খুবই কঠিন। আমরা বন্ধুরা তখন নিজেদের মধ্যে বলাবলি করতাম, ভবিষ্যতে আমাদের মধ্যে কার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার যোগ্যতা বেশি আর কার কম। আমি সবচেয়ে কম নম্বর দিতাম মনমোহন সিংকে। কারণ, তাঁর রাজনীতি নিয়ে কোনও আগ্রহ ছিল বলে মনে হত না। অথচ তিনি নিজেকে একজন দক্ষ প্রধানমন্ত্রী প্রমাণ করেছেন।’
তিনি বলেন, ‘রাহুলের সঙ্গে আমার বহুদিনের পরিচয়। সে কেমব্রিজে পড়ার সময় আমার কাছে আসত। সেই সময় কংগ্রেস নেতা রাজনীতির ক্ষেত্রে স্পষ্টবাদী ছিলেন না। তবে এখন অনেক পরিণত।’
অমর্ত্য সেন আরও বলেন, ‘নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন NDA সরকারের আমলে সংসদে রাহুল গান্ধী কীভাবে বিরোধীদের নেতৃত্ব দেন, সেখানেই তাঁর আসল পরীক্ষা। রাহুল গান্ধীর ভারত জোড়ো যাত্রা তাঁকে শুধু একজন জাতীয় নেতা হিসাবে গড়ে তোলেনি, পাশাপাশি দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটকেও সমৃদ্ধ করেছে। যখন তিনি ট্রিনিটি কলেজে পড়তেন, আমি সেই সময় থেকে তাঁকে চিনি। আমিও ওখানেই পড়াশোনা করেছি এবং পরে সেখানকার শিক্ষকও হয়েছি। সেই সময়, তিনি জীবনে কী করতে চান, সেই সম্পর্কে অনিশ্চিত ছিলেন। তখন তাঁর রাজনীতি পছন্দ ছিল না।’
তিনি বলেন, ‘প্রথম দিকে, রাজনীতিতে পায়ের তলায় জমি পেতে তাঁর বেশ কিছুটা অসুবিধা হয়েছিল। কিন্তু, তাঁর সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স অসাধারণ। আমি এর প্রশংসা করব। আপনি শুধুমাত্র ব্যক্তিগত গুণাবলীর উপর ভিত্তি করে নির্বাচনে জিততে পারবেন না, এটি দেশের বৃহত্তর প্রেক্ষাপটের উপর নির্ভর করে।’