শহুরে চালচলন জানা নেই, কথায় গ্রাম্য টান, ব্যাংকে সহকর্মীদের কটাক্ষ শুনে আত্মহত্যা যুবতীর

নিজের যোগ্যতায় চাকরি পেয়েছিলেন, কিন্তু কর্মক্ষেত্রে শান্তি মিলল না। নিত্যদিন কটাক্ষ আর অপমানের শিকার হতে হতো। কখনো চেহারা নিয়ে, কখনো কথা বলার ধরন নিয়ে, এভাবেই বছর সাতাশের এই যুবতী সহকর্মীদের হাসির পাত্র হয়ে ওঠেছিলেন। অবশেষে আর সহ্য করতে না পেরে, জীবন শেষ করার চরম সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন তিনি। অফিস থেকে বাড়ি ফিরেই আত্মহত্যা করেন ব্যাঙ্কে কর্মরত এই দুঃখী যুবতী।

২৭ বছর বয়সী এই যুবতী একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কে কাজ করতেন। নয়ডায় ছিল তার পোস্টিং। কিন্তু সেই অফিসে যোগদানের পর থেকেই তাকে চরম কটাক্ষের শিকার হতে হতো। অভিযোগ, বিগত ছয় মাস ধরে তাকে নিয়ে সহকর্মীরা ঠাট্টা-মজা করত। পোশাক, কথা বলার ধরন, এমনকি চেহারা নিয়েও তাকে উপহাস করা হতো। বিভিন্ন নাম ধরেও ডাকা হতো।

নিত্যদিন এই অপমান সহ্য করতে না পেরে শুক্রবার আত্মহত্যা করেন ওই যুবতী। পুলিশ জানিয়েছে, যুবতীর ঘর থেকে একটি সুইসাইড লেটার উদ্ধার করা হয়েছে। চিঠিতে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করেছেন যুবতী। তাদের যেন মৃত্যুদণ্ডের সাজা দেওয়া হয়, এমনটাই দাবি করেছেন তিনি।

পরিবারের দাবি:

যুবতী প্রথমে পরিবারকে কিছুই জানাননি।একটা সময় মানসিক অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে পরিবারের সদস্যদের সব কিছু জানান।একাধিকবার ইস্তফা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন যুবতী। কিন্তু প্রতিবারই ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ তা খারিজ করে দেয়।

সম্প্রতি এক মহিলা তাকে আক্রমণ করলে, যুবতী প্রতিবাদ করে চড় মারেন।এরপরই ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ তাকে টার্মিনেশন লেটার দেয়।
এই অপমান সহ্য করতে না পেরেই আত্মহত্যা করেন তিনি।এই ঘটনা ঘটেছে বলে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ এখনও কোনো মন্তব্য করেনি।