পাশে নেই দল, ‘সব কা সাথ, সব কা বিকাশ’ নিয়ে মন্তব্য করে ‘একা’ হয়ে গেলেন শুভেন্দু

‘সব কা সাথ, সব কা বিকাশ’ স্লোগান দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কিন্তু, বুধবার রাজ্য বিজেপির বর্ধিত ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে ‘বেফান্স’ স্লোগান উঠেছে। শুধু তাই নয়, ‘সংখ্যালঘু ফ্রন্টের দরকার নেই’ মন্তব্যও শোনা গেল এই বঙ্গ বিজেপি নেতার কন্ঠে। শুভেন্দুর এই মন্তব্য কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সামনে চলে আসে শুভেন্দুর এই মন্তব্যেই বঙ্গ রাজনীতিতে তোলপাড় পড়ে যায়।

বুধবার সায়েন্স সিটি প্রেক্ষাগৃহে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘সব কা সাথ, সব কা বিকাশ আর বলব না।’ তাঁর সংযোজন, ‘বলব যো হামারে সাথ, হাম উনকা সাথ। সব কা সাথ সবকা বিকাশ বন্ধ করো। নো নিড সংখ্যালঘু মোর্চা (সংখ্যালঘু মোর্চার প্রয়োজন নেই)।’

তৃণমূল নেতা শান্তনু সেন বলেন, ‘বিজেপির আসল চেহারা প্রকাশ্যে এসেছে। আমরা বারবার বলি মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় বাংলার ১১ কোটি মানুষের মুখ্যমন্ত্রী। নরেন্দ্র মোদী শুধুমাত্র বিজেপির প্রধানমন্ত্রী। বিজেপি স্বার্থপর। মানুষ ভোটবাক্সে যোগ্য জবাব দিয়েছে।’

নিজের মন্তব্যের ব্যাখ্যাও করেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, ‘আমি বিজেপির গ্রাউন্ডে কাজ করা কর্মী হিসেবে এটাই বলতে চেয়েছি, বাংলায় শুধুমাত্র সনাতনী হিন্দুরাই বিজেপিকে ভোট দিয়েছে। সংখ্যালঘু বিশেষ করে মুসলিমরা বিজেপিকে ভোট দেয়নি। ১০০ জনের মধ্যে ৯১ জন ২০২১ সালে ভোট দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়কে। এবার ৯৫ শতাংশ মুসলিম তাদের ভোট দিয়েছে। তাই আমি রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই মন্তব্য করেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এর সঙ্গে ভারত সরকারের উন্নয়নের কাজ বা প্রধানমন্ত্রী স্লোগান সব কা সাথ সব কা বিকাশের কোনও সম্পর্ক নেই। এটি রাজনৈতিক মঞ্চ ছিল। আমি বলেছি বিজেপির রাজনৈতিকভাবে তাঁদের সঙ্গে থাকা উচিত যাঁরা আমাদের সঙ্গে আছে।’

বিজেপির মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য একটি সাংবাদিক বৈঠক করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা জাতীয়তাবাদী সমস্ত মুসলিমের পক্ষে। কিন্তু, যারা ‘নাপাক’ (অপবিত্র) বলে এই দেশ ছেড়ে একসময় চলে গিয়েছিল এবং এখন ফিরে আসছে, বিনা যুদ্ধে ভারত দখলের চক্রান্ত করছে, আমরা তাদের বিরুদ্ধে।’