বাংলায় ফের সালিশি সভায় যুবক-যুবতীকে মারধরের অভিযোগ, ১১ জন গ্রেপ্তার, অধরা ৮ জন!

মালদার কালিয়াচক থানার বামনগ্রাম মোসিনপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় আবারও সালিশি সভায় যুবক-যুবতীকে মারধর ও হেনস্থার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ এবং তাদের জেল হেফাজতে পাঠিয়েছে আদালত। মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ২০ জুলাই নির্ধারিত।
অভিযোগ, গত ১২ জুলাই ওই যুবক-যুবতীকে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক রয়েছে এই সন্দেহে সালিশি সভায় ডাকা হয়েছিল। সেইদিন সকালে ও রাতে দুই দফায় বসে ওই সালিশি সভায় তাদের মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। এরপর তাদের একটি বাড়িতে আটকে রাখা হয় এবং পরেরদিন ফের মারধর করা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, পরে তাদের গাছে বেঁধে রাখা হয় এবং মাথা ন্যাড়া করে গলায় জুতোর মালা পরিয়ে গোটা এলাকা ঘোরানো হয়।
এই ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। আক্রান্ত যুবক ও যুবতীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
এই ঘটনায় মোট ১৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়। নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ১৩ তারিখ ১১ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আদালতে পেশ করার পর বিচারক ২০ জুলাই পর্যন্ত জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন।
এই ঘটনায় সরকারি আইনজীবী দেবজ্যোতি পাল জানিয়েছেন, ওই যুবক ও যুবতী উভয়েই আগে বিয়ে করেছিলেন। কিন্তু উভয়েরই বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায়। এরপর তাদের মধ্যে প্রণয়ের সম্পর্ক হয় এবং একবছর আগে বিয়েও করেন তাঁরা।
যুবক রাঁচিতে ফেরিওয়ালার কাজ করেন। আর যুবতী থাকেন কালিয়াচকে। ওইদিন স্ত্রীয়ের সাথে দেখা করতেই এসেছিলেন যুবক।
এদিকে এরই মাঝে বিষয়টি জানতে পারেন যুবতীর প্রাক্তন স্বামী। তিনি বিষয়টি সালিশিতে জানান। এরপরেই সালিশি সভা বসিয়ে ওই যুবক ও যুবতীকে মারধর ও হেনস্থার অভিযোগ ওঠে।
ধৃতদের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টা, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, মানহানি সহ বেশকিছু ধারায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। বাকি ৮ জনের খোঁজেও তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।