স্বপ্নাদেশে দেবীকুণ্ডে বেআইনি মন্দির নির্মাণ! প্রশাসনের নজরে স্বঘোষিত ধর্মগুরু

উত্তরাখণ্ডের হিমাবাহের কোলে, সরকারি জমিতে চুপিসারে গড়ে উঠেছে এক বিশাল মন্দির। অভিযোগ, এই অবৈধ নির্মাণের পেছনে রয়েছেন এক স্বঘোষিত ধর্মগুরু, যিনি দাবি করেন ‘ঈশ্বরের আদেশেই’ তিনি এই মন্দির তৈরি করেছেন।
যোগী চৈতন্য আকাশ নামের এই ব্যক্তি স্থানীয়দের কাছে ‘বাবা’ হিসেবে পরিচিত। তিনি দাবি করেন, এলাকার মানুষের কাছে তিনি বেশ শ্রদ্ধেয় এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিত্ব।
কিন্তু কীভাবে, কার অনুমতি ছাড়াই, তিনি সরকারি জমি দখল করে ফেললেন একটি বিশাল মন্দির নির্মাণের জন্য?
এই প্রশ্নই ঘুরছে এখন সকলের মনে। ঘটনা প্রকাশ পেতেই চক্ষু চড়কিয়েছে সরকারি আধিকারিকদের।
যোগী চৈতন্য আকাশ-এর বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে জমি দখল করে মন্দির নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে।
যোগী চৈতন্য আকাশ ১৬,৫০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত সুন্দেরধুঙ্গা হিমবাহের কাছে সরকারি জমি দখল করে মন্দির নির্মাণ করেছেন।স্থানীয় প্রশাসন জানে না কীভাবে তিনি অনুমতি ছাড়াই এই নির্মাণ কাজ চালাতে পেরেছেন।’ঈশ্বরের আদেশ’ ছাড়া অন্য কোন ব্যাখ্যাও পাওয়া যাচ্ছে না তাঁর।
এক স্থানীয় বাসিন্দা প্রকাশকুমারও বলেন, ‘শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে প্রতি ১২ বছরে পূণ্যার্থীরা কুণ্ড দর্শনে যান। রাতারাতি সকলের কাছে বাবা বলে পরিচিত হয়ে ওঠা এই ব্যক্তি গ্রামবাসীদের ভুল বুঝিয়ে এখানে মন্দির নির্মাণ করে চিরকালীন ঐতিহ্যের অপমান করেছেন।’
এই ঘটনায় উঠে এসেছে বেশ কিছু প্রশ্ন:
সরকারি নিরাপত্তা ব্যবস্থা কিভাবে এতটা ভেদ করে ‘যোগী চৈতন্য আকাশ’ এই নির্মাণ কাজ চালাতে পেরেছেন?
স্থানীয় প্রশাসন কি এতটাই উদাসীন ছিল যে তাঁরা এই অবৈধ নির্মাণের খবরই পাননি?
‘ঈশ্বরের আদেশ’ ছাড়াও কি ‘যোগী চৈতন্য আকাশ’-এর আরও কোন উদ্দেশ্য ছিল এই মন্দির নির্মাণের পেছনে?
এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন। ‘যোগী চৈতন্য আকাশ’-কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলেও জানা গেছে।
আইনের হাত যখন কঠোর, তখন ‘ঈশ্বরের আদেশ’-ও রক্ষা করতে পারে না।
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়া উচিত যাতে এমন ঘটনা ভবিষ্যতে আর না ঘটে।