বিশেষ: নাতাশা-হার্দিকের বিচ্ছেদের নেপথ্যে কি ‘নতুন বান্ধবী’, জেনেনিন কে এই তরুণী?

একের পর এক রোম্যান্টিক গান বেজেই চলছে ব্যাকগ্রাউন্ডে। শাহরুখ খানের সিনেমার গান ‘চাহে জিসে দূর সে দুনিয়া, উওহ মেরে করীব হ্যায়’। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে জয়ের পর হার্দিক পান্ড্য হয়তো ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে গেছেন। কিন্তু তার হাত শক্ত করে ধরে রয়েছেন এক তরুণী। পরনে পলকা ডট ড্রেস। স্নিগ্ধ হাসি হেসে পাশে দাঁড়িয়ে রয়েছেন হার্দিক।
তরুণী নিজের ইনস্টাগ্রামের পাতায় হার্দিকের সঙ্গে ছবি পোস্ট করার পর তাকে নিয়ে আগ্রহ দানা বেঁধেছে সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারীদের মনে। তবে কি হার্দিকের সংসার সত্যিই ভাঙনের পথে? এই তরুণীর পরিচয়ই বা কী?
বেশ কয়েক মাস ধরেই হার্দিক এবং নাতাশার বিবাহবিচ্ছেদ নিয়ে নানা ধরনের জল্পনা চলছে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ চলাকালীন গ্যালারিতে দেখা যায়নি নাতাশাকে। জয়ের পর দেশের মাটিতে উৎসবের সময়েও ছিলেন না হার্দিক-পত্নী। প্রশ্ন উঠবেনাই-বা কেন; জীবনসঙ্গিনীর সঙ্গে দেখা না গেলেও হার্দিকের সঙ্গে দেখা পাওয়া যায় প্রাচীর।
ছবি এবং ভিডিও পোস্ট করে প্রাচী সামাজিক মাধ্যমের দেওয়ালে লিখছেন, ‘যখন বিশ্বকাপের নায়কের সঙ্গে আমার দেখা হয়। অনুরাগীর মুহূর্ত।’ কখনও বা তরুণী লিখছেন, ‘আমায় কেউ চিমটি কাটো প্লিজ।’ হার্দিক যে বাস্তবেই তার হাত ধরে রয়েছেন তা বিশ্বাস করতে পারছেন না প্রাচী!
প্রাচীর সঙ্গে হার্দিককে বেশ খুশি-খুশি দেখাচ্ছিল সেই পোস্টে। সেই রহস্যময়ী নারী অর্থাৎ প্রাচী শোলাঙ্কি পেশায় একজন মেকআপ আর্টিস্ট। ইনস্টাগ্রামে প্রায় ৫৪৬ হাজার ফলোয়ার রয়েছে। তারা জানিয়েছেন, প্রাচীকে ডেট করছেন না হার্দিক; সে শুধু একজন বড় ভক্ত ক্রিকেটারের। প্রাচী হার্দিকের সঙ্গে দেখা করার বিষয়ে, তার উত্তেজনা প্রকাশ করে এই পোস্টটি শেয়ার করেছেন।
প্রাচী শোলাঙ্কি হার্দিকের ভাই ক্রুনাল পান্ডিয়া এবং তার স্ত্রী পাঙ্খুরির সঙ্গেও ছবিও শেয়ার করেছেন। পুরো পান্ডিয়া পরিবার প্রাচীর খুব ঘনিষ্ঠ বলেই মনে হচ্ছে, যা ডেটিং গুজবকে উসকে দিয়েছে। প্রাচী ও হার্দিকের ছবির কমেন্ট সেকশনে একজন লেখেন, ‘নাতাশার থেকে অনেক ভালো’। অপরজন লেখেন, ‘গাইজ নতুন ভাবি পেয়ে গিয়েছি।’ তৃতীয়জন লেখেন, ‘ম্যাডাম হার্দিক ভাইয়ের সঙ্গে বিয়ে করে নাও।’
তবে সম্প্রতি হার্দিক পান্ডিয়ার সঙ্গে বিচ্ছেদের জল্পনা নিয়ে মুখ খুললেন নাতাশা স্ট্যানকোভিচ। ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিওতে তিনি বলেন, কফি খেতে খেতে একটা কথা মাথায় এল। কত তাড়াতাড়ি আমরা কারো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি। আমরা শান্ত হয়ে ভাবি না। ভাল করে পর্যালোচনা করি না। সরাসরি সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি। আমরা দেখি না কী হয়েছে। কোনো ঘটনার নেপথ্যে কী কারণ রয়েছে। কী পরিস্থিতিতে কোনো ঘটনা ঘটছে। তাই সিদ্ধান্ত না নিয়ে পর্যবেক্ষণ করুন। ধৈর্য ধরুন।
কয়েকদিন আগে ইনস্টাগ্রামে আরো একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন নাতাশা। সেখানে তিনি বলেন, তোমাকে আরো একবার ছোট্ট একটা কথা মনে করিয়ে দিতে চাই। ঈশ্বর লোহিত সাগর সরাতে পারেননি। তিনি সেটাকে দু’ভাগে ভাগ করে দিয়েছিলেন। তার অর্থ, তিনি তোমার জীবনের কোনো সমস্যা সরিয়ে দেবেন না। সেই সমস্যার মধ্যে দিয়ে বেরিয়ে আসার পথ তৈরি করে দেবেন।
নাতাশার এই পোস্টের পরে অনেকে মনে করেন, হার্দিকের উদ্দেশেই এই কথা বলেছেন তিনি। যদিও হার্দিকের নাম সরাসরি নাতাশা নেননি, তারপরেও গত কয়েক মাসে তাদের যেভাবে আলাদা আলাদা দেখা গেছে, তাতে বিচ্ছেদের জল্পনা আরো বাড়ছে।