বিশেষ: ভিক্ষা করে বছরে আয় ৪২ বিলিয়ন, বিদেশে বাড়ছে পাকিস্তানী ভিক্ষুকদের সংখ্যা

একদিকে চরম আর্থিক সংকট, অন্যদিকে বিদেশি মুদ্রার ভাণ্ডার চরম নিচে। এই দুইয়ে মিলে জর্জরিত পাকিস্তান। দেশের সাধারণ মানুষের দুবেলা খাওয়াও ঠিকমতো জুটছে না।

এই দুর্যোগের মধ্যে দেখা দিয়েছে আরেক ভয়াবহ চিত্র। বহু পাকিস্তানি নাগরিক সৌদি আরব, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর মতো দেশে গিয়ে রাস্তাঘাট ও ধর্মস্থানে ভিক্ষা করছে।

এই প্রবণতা দেশের জন্য বড় সমস্যা তৈরি করেছে। বিশ্বের দরবারে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হওয়ায় কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে পাক সরকার।

বিদেশে গিয়ে ভিক্ষাবৃত্তি করছেন এমন প্রায় দুই হাজার মানুষের পাসপোর্ট বাতিল করা হয়েছে। সাত বছরের জন্য তাদের পাসপোর্ট সাসপেন্ড করা হয়েছে।

এই বিষয়ে কড়া পদক্ষেপ নিতে বদ্ধপরিকর সেদেশের প্রশাসন, বিদেশ মন্ত্রক ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।

অন্যান্য ইসলামিক দেশগুলিতে গ্রেপ্তার ভিক্ষুকদের মধ্যে ৯০% পাকিস্তানি।

ইরাক ও সৌদি আরব পাকিস্তানকে জানিয়ে দিয়েছে যে, তাদের দেশে আর পাক ভিক্ষুকদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না।

মক্কার মসজিদ এলাকায় ধরা পড়া পকেটমারদের সকলেই পাকিস্তানি।

গত বছর সেপ্টেম্বরে মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রক সিনেটের স্থায়ী কমিটিকে জানিয়েছিল যে, বিপুল সংখ্যক পাকিস্তানিকে বিদেশে নিয়ে গিয়ে ভিক্ষুক বানানো হচ্ছে।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:

৯০% ভিক্ষুক ইসলামিক দেশগুলিতে গ্রেফতার হওয়াদের মধ্যে পাকিস্তানি।
সৌদি আরব ও ইরাক পাকিস্তানকে জানিয়েছে যে, তাদের দেশে পাক ভিক্ষুকদের জন্য জায়গা নেই।
২০২৩ সালে মক্কার মসজিদ এলাকায় ধরা পড়া সকল পকেটমার ছিল পাকিস্তানি।
পাকিস্তানে প্রায় ৩৮ মিলিয়ন পেশাদার ভিক্ষুক আছে।
দেশের দরগায় ভিক্ষুকদের অনুদান দেওয়ার রীতি ভিক্ষার প্রবণতা বাড়িয়েছে।