সব বিষয়ে পাশ করেছেন মাত্র ৫৪% পড়ুয়া, কলকাতার কলেজে স্নাতকে খারাপ ফলের দায় কার?

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪২টি কলেজে জাতীয় শিক্ষানীতির আদলে কারিকুলাম ফ্রেমওয়ার্ক (সিসিএফ) কার্যকরী করার পর প্রথম সেমেস্টারের স্নাতক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। ফলাফল বেশ ভয়ঙ্কর। কমার্সে মাত্র ৫৪%, আর্টসে ৪৬% এবং সায়েন্সে ৪৪% ছাত্র-ছাত্রী সব পেপারে পাশ করেছে। গত বছরের তুলনায় এটি অনেক খারাপ।
কেন এই খারাপ ফলাফল?
এই খারাপ ফলাফলের জন্য কে দায়ী? নতুন শিক্ষানীতি? নতুন সিলেবাসে পড়াশোনার উপযুক্ত পরিবেশ না থাকা? নাকি নতুন ব্যবস্থায় সিলেবাসের চাপ ও ক্রেডিট-পিছু নম্বর বরাদ্দের ক্ষেত্রে ভারসাম্যের অভাব? অথবা করোনার পর সার্বিকভাবেই পড়াশোনায় আগ্রহ কমে যাওয়া? এই সব প্রশ্ন ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।
কলেজ অধ্যক্ষদের মতামত:
একাধিক কলেজ অধ্যক্ষ বলছেন, সায়েন্স মেজরের ক্ষেত্রে ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, কম্পিউটার সায়েন্স এবং বোটানির মতো বেশ কয়েকটি বিষয়ে ফলাফল রীতিমতো হতাশাজনক। বহু কলেজেই মেজরের ছাত্রছাত্রীদের মাইনর পেপারে (আগের জেনারেল/পাশ) খারাপ ফল হয়েছে। সেমেস্টার ‘নট ক্লিয়ারড’ স্ট্যাটাস এসেছে। পরিবেশবিদ্যার মতো বাধ্যতামূলক বিষয়ে আগে শুধু মাল্টিপল চয়েস কোয়েশ্চনস (এমসিকিউ) পদ্ধতিতে পরীক্ষা হতো। কিন্তু এ বার সংক্ষিপ্ত ও বর্ণনামূলক প্রশ্নের উত্তর লিখতে হয়েছে।
অধ্যক্ষ মানস কবিরের বক্তব্য:
আশুতোষ কলেজের অধ্যক্ষ মানস কবির বলেন, “সিসিএফে একেবারে নতুন সিলেবাস। ইন্টার-ডিসিপ্লিনারি কোর্স চালু হয়েছে, প্রশ্নের ধরনও বদলেছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অফ স্টাডিজ সময় মতো কলেজগুলিকে গাইডলাইন পাঠায়নি। কলেজে মডেল টপিক ও মডেল প্রশ্নোত্তর পাঠানো হয়নি। অনেক বিষয়ের ইউজি বোর্ড অফ স্টাডিজ (বিওএস) অকেজো হয়ে রয়েছে।”
এই খারাপ ফলাফলের প্রভাব:
এই খারাপ ফলাফলের প্রভাব কী হবে তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেন শিক্ষাবিদরা।