বিশেষ: রাম সেতুর রহস্যফাঁস বিজ্ঞানীদের, কী আছে সমুদ্রের নীচে? জানাল ISRO

অ্যাডামস ব্রিজ, যা রাম সেতু নামেও পরিচিত, চুনাপাথরের তৈরি একটি প্রাচীন সেতু যা ভারতের রামেশ্বরম এবং শ্রীলঙ্কার মান্নার দ্বীপকে সংযোগ করে। রামায়ণ অনুসারে, এই সেতু ভগবান রাম এবং তার বানর সেনারা নির্মাণ করেছিলেন।
ইসরোর গবেষণা:
ইসরোর যোধপুর ও হায়দরাবাদ ন্যাশনাল রিমোট সেন্সিং সেন্টারের গবেষকরা নাসার আইসিইস্যাট-২ স্যাটেলাইট ব্যবহার করে রাম সেতুর সমুদ্রগর্ভস্থ অংশের একটি বিস্তারিত মানচিত্র তৈরি করেছেন।
গবেষণার ফলাফল:
২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে প্রকাশিত এই গবেষণায় দেখা গেছে যে রাম সেতু আসলে ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে একটি প্রাকৃতিকভাবে নির্মিত স্থলভাগের ধারাবাহিকতা।
রাম সেতুর প্রায় ৯৯.৯৮% অংশই সমুদ্রের তলদেশে লুকিয়ে আছে, এবং মাত্র ০.০২% অংশই দৃশ্যমান।
সমুদ্রগর্ভস্থ সেতুর কাঠামো বরাবর ১১টি সরু চ্যানেল রয়েছে যা জল প্রবাহকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং সেতুকে ঢেউয়ের ক্ষয় থেকে রক্ষা করে।
গবেষকরা মনে করেন যে রামায়ণের লেখকরা সম্ভবত এই প্রাকৃতিক স্থলভাগকেই রাম সেতু হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।
Ram Setu: ISRO's latest study reveals the most detailed map of the submerged Ram Setu confirming it as a continuous ridge from Dhanushkodi to Talaimannar. This 29km limestone chain is 99.98% underwater! pic.twitter.com/zzsphQTx3m
— Ishaan Saxena (@irony_ishaan) July 9, 2024
গবেষণার গুরুত্ব:
এই গবেষণা রাম সেতুর রহস্য সম্পর্কে আমাদের জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করে এবং এর ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব প্রতিষ্ঠা করে।
এটি ভবিষ্যতের প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণার জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে।
সমুদ্রগর্ভস্থ ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলির সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে নীতি নির্ধারণে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
উদ্ধৃতি:
“ধনুশকোডি এবং তালাইমান্নার দ্বীপের একটি নিমজ্জিত স্থলভাগের ধারাবাহিকতা হল রাম সেতু। গবেষণার মাধ্যমে এই বিষয়ে আমরা নিশ্চিত হয়েছি।” – ইসরোর বিজ্ঞানীরা