চা প্রেমীদের খরচ বাড়ছে! বাগানে উৎপাদন কমতেই দামি হচ্ছে সকলের পছন্দের পানীয়

সকালের ঘুম ভাঙতে অনেকের কাছেই চায়ের প্রথম চুমুক অপরিহার্য। কিন্তু চড়চড় করে বাড়ছে এই উদ্দীপক পানীয়ের দাম। রোজ সকালে বহু পরিবারের ঘুম ভাঙে চা-এর চুমুক দিয়েই, কিন্তু এবার সেটাও বিলাসিতা হতে পারে। কারণ, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চায়ের উৎপাদন কমে গেছে।
টি-বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর চায়ের দাম বাড়ছে প্রায় 20 শতাংশ করে।
কেন চা-এর উৎপাদন কমছে?
গত কয়েক মাস ধরেই চা উৎপাদন কমছে। মে মাসে তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ার কারণে চা-এর চাষ ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এরপর আবার বন্যা সমস্যা পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করে তুলেছে। বিশেষ করে অসমে চা উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছে।
গত বছরের তুলনায় এ বছর মে মাসে উৎপাদন কমেছে প্রায় 30 শতাংশ। গত বছরের মে মাসে চা উৎপাদন হয়েছিল প্রায় 910 লাখ কেজি। এবার উৎপাদন গত এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে কম।
অসম বর্তমানে বন্যায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। দেশে মোট চা উৎপাদনের 50 শতাংশেরও বেশি উৎপাদিত হয় অসমের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে।
20টি কীটনাশক সরকার নিষিদ্ধ করেছে। এ কারণেই চায়ের উৎপাদনও কমে গিয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
চায়ের দাম কতটা বেড়েছে?
চা উৎপাদন কমে যাওয়ার জেরেই চায়ের দাম বেড়ে গিয়েছে। জুন মাসে চায়ের দাম কেজিতে গড়ে প্রায় 218 টাকা বেড়ে গিয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় প্রায় 20 শতাংশ বেশি।
এ বছর চা উৎপাদন 150 থেকে 200 কেজি কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। যার জেরে চায়ের দাম 16 থেকে 20 শতাংশ বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সাত সকালের চায়ের কাপে এখন বিষাদ। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চায়ের দাম বেড়ে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যেতে পারে।
প্রতি বছর, জুলাই মাসে চা উৎপাদন সবচেয়ে বেশি হয়। কিন্তু এবছর বৃষ্টিতে ফসলের ভয়াবহ ক্ষতি হয়েছে।চা শিল্পের সাথে জড়িত ব্যক্তিরা উদ্বিগ্ন। তাদের মতে, উৎপাদনে ঘাটতি থাকায় দাম বাড়া স্বাভাবিক।