ভয়ানক ভূমিকম্পর সাথে সুপার সুনামিও! বিপদ ঘনাচ্ছে আমেরিকার, সতর্ক করলো বিজ্ঞানীরা

প্রবল কম্পনে মাটি নড়েচড়ে, ভেঙে পড়ছে গগনচুম্বী ভবন!হলিউডের সিনেমার মতোই ভয়াবহ দৃশ্যের সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে উত্তর আমেরিকার পশ্চিম উপকূলে। বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, প্রশান্ত মহাসাগরের গভীরে মেগা ভূমিকম্প ও সুনামির আবহ তৈরি হচ্ছে।

রহস্যময় ফোয়ারা ও বিজ্ঞানীদের উদ্বেগ:

ঘুটঘুটে অন্ধকারে প্রশান্ত মহাসাগরের প্রায় এক কিলোমিটার গভীরে রোবট ডাইভারের ক্যামেরায় ধরা পড়ে অস্বাভাবিক দৃশ্য।সমুদ্রের গভীর থেকে ফোয়ারার মতো উঠে আসছে উষ্ণ তরল, যা চারপাশের জলের তুলনায় প্রায় ১৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট বেশি গরম।এই তরল ‘সাধারণ’ জলের থেকে আলাদা, এতে মিশে আছে নানা রকমের রাসায়নিক।বিজ্ঞানীদের ধারণা, এই রহস্যময় ফোয়ারা আসলে সমুদ্রের গভীরে তৈরি হওয়া বিশাল ফাটলের মধ্য দিয়ে বেরিয়ে আসা তরল।

ভূমিকম্প ও সুনামির আশঙ্কা:
ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা প্রশান্ত মহাসাগরের গভীরে প্রায় ৯৫০ কিলোমিটার লম্বা একটি ফাটলের সন্ধান পেয়েছেন।এই ফাটল ‘কাসকেডিয়া সাবডাকশন জোন’-এ অবস্থিত, যেখানে দুটি টেকটোনিক প্লেট পরস্পরের ধাক্কায় লেগে থাকে।বিজ্ঞানীদের মতে, এই ফাটলের কারণে ভবিষ্যতে মেগা ভূমিকম্প হতে পারে, যার তীব্রতা রিখটার স্কেলে ৯-৯.১ পর্যন্ত হতে পারে।এমন ভূমিকম্পের ফলে বিশাল সুনামিও আঘাত হানতে পারে, যা উপকূলীয় এলাকাকে ডুবিয়ে দিতে পারে।

কীভাবে ধরা পড়ল এই আশঙ্কা?

ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা ২০15 সালে উত্তর আমেরিকার পশ্চিম উপকূলে অভিযান চালিয়েছিলেন।সেখান থেকে সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।প্রায় 600 মাইল (950 কিলোমিটার) লম্বা একটি ফাটল ধরা পড়েছে প্রশান্ত মহাসাগরের 3280 ফুট (এক কিলোমিটার) গভীরে।এই ফাটল ‘কাসকেডিয়া সাবডাকশন জোন’-এ অবস্থিত, যেখানে দুটি টেকটোনিক প্লেট পরস্পরের সাথে লেগে রয়েছে।রোবট ডাইভারের মাধ্যমে ধরা পড়েছে সমুদ্রের গভীর থেকে উষ্ণ তরলের ফোয়ারা।বিজ্ঞানীদের ধারণা, এই তরল টেকটোনিক প্লেটগুলিকে মসৃণভাবে চলতে সাহায্য করে।

কী কী ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে?

বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, আগামী দিনগুলিতে এই ফাটল বরাবর একটি প্লেট অন্যটির মধ্যে ঢুকে গেলে ভয়াবহ ভূমিকম্প হতে পারে।রিখটার স্কেলে 9-9.1 মাত্রার এই ভূমিকম্প উত্তর আমেরিকার পশ্চিম উপকূলে বিরাট ক্ষয়ক্ষতি করতে পারে।2011 সালে জাপানে ‘তোহোকু ভূমিকম্প’-এর মতোই বিপর্যয়ের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ভূমিকম্পের ফলে সুনামিও আঘাত হানতে পারে, যা উপকূলীয় এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করতে পারে।

জাপানের তোহোকু ভূমিকম্পের পুনরাবৃত্তি?

২০১১ সালে জাপানে ‘তোহোকু ভূমিকম্প’ নামে পরিচিত ৯.১ কম্পাঙ্কের ভূমিকম্পে প্রায় ২০ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন।
বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন, উত্তর আমেরিকার পশ্চিম উপকূলেও একই রকম বিপর্যয় ঘটতে পারে।

কী করা উচিত?
বিজ্ঞানীরা সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দিচ্ছেন।উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের উচিত স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশাবলী মেনে চলা এবং জরুরী পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকা।