“৭৭ বছর পর স্বদেশি আইন ব্যবস্থা”-দ্রুত ন্যায়ের প্রতিশ্রুতি দিলেন অমিত শাহ

এটি দেশের প্রথম স্বদেশি আইন ব্যবস্থা। এমনই মন্তব্য করলেন অমিত শাহ। এছাড়াও, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নতুন ফৌজদারি আইন প্রয়োগ করা হলে দ্রুত বিচারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

সোমবার সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘ব্রিটিশ আমলে করা আইন পুরোপুরি উল্টে দেওয়া হয়েছে। এত বছর পর দেশের ফৌজদারি আইনে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। যা দেশে আধুনিক পদ্ধতিতে বিচার প্রদানে কার্যকর প্রমাণিত হবে। আমি দাবি করতে পারি যে এটি হবে বিশ্বের সবচেয়ে আধুনিক ফৌজদারি আইন।

এই আইনের অধীনে, 90 দিনের মধ্যে অভিযোগকারী এবং নির্যাতিতাকে ন্যায়বিচার দেওয়া হবে, সেই সঙ্গে বিরোধীদের সমস্ত দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন অমিত শাহ।

তিনি বলেন, ‘বিরোধীরা নানা বিভ্রান্তিমূলক বার্তা ছড়াচ্ছে। মিত্রদের আমি স্মরণ করাতে চাই, লোকসভায় ৯ ঘণ্টা ২৯ মিনিট ধরে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা বিল নিয়ে আলোচনা হয়। ৩৪ সাংসদ অংশ নেন সেই আলোচনায়। পাশাপাশি ৬ ঘণ্টা ৭০ মিনিট আলোচনা হয় রাজ্যসভায়। যেখানে অংশ নিয়েছিলেন ৪০ জন সাংসদ। একইসঙ্গে সমস্ত মুখ্যমন্ত্রীদের চিঠি লিখে পরামর্শ চাওয়া হয়। সমস্ত হাইকোর্টের বিচারপতিদেরও চিঠি দেওয়া হয়। এমনকী, IPS অফিসার এবং জেলাশাসকদের থেকেও পরামর্শ চাওয়া হয়। ১৫৮ বার বৈঠক করেছি আমি। সমস্ত দিক বিচার তবে এই বিল তৈরি করা হয়। আড়াই থেকে তিন মাস ধরে বিশদে চর্চা হয়। সব দলের সাংসদরা পরামর্শ দেন। ৯৩টি বদল করে তবেই বিল পেশ করা হয় সংসদে।’

অমিত শাহের মন্তব্য, ‘আলোচনা হোক।আমরাও জবাব দেব। আমাদের উদ্দেশ্য ন্যায় ও আত্মসম্মান দেওয়ার প্রচেষ্টা। পথে নেমে বিক্ষোভ দেখানোর আগে আমার সঙ্গে আলোচনা করুন। ভারতের স্বাধীনতার পর কোনও আইন প্রণয়ন করার সময় এত আলোচনা হয়নি যতটা এই ন্যায় সংহিতার ক্ষেত্রে হয়েছে। দয়া করে আমাদের জনতার সেবা করতে দিন। সময়মতো ন্যায় পেলে দেশের মানুষেরই উপকার হবে।’

অমিত শাহ বলেন, ‘ফৌজদারি আইনে গণপিটুনি নিয়ে কোনও ধারা ছিল না এতদিন। এই প্রথমবার গণপিটুনিতে খুনের অভিযোগে কড়া শাস্তির ধারা আনা হয়েছে।’

গণপিটুনির জন্য এবার মৃত্যুদণ্ডের সাজা পর্যন্ত হত পারে।