গণপিটুনিতে খুনের সাজা মৃত্যুদণ্ড! ভারতীয় ন্যায় সংহিতায় শাস্তির আরও কড়া বিধান

ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS), ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (BNSS) ও ভারতীয় সাক্ষ্য অধিনিয়ম (BSA) – এই তিনটি নতুন ফৌজদারি আইন গত সোমবার থেকে কার্যকর হয়েছে। এর ফলে ব্রিটিশ আমলের ভারতীয় দণ্ডবিধি (IPC) অচল হয়ে গেছে। নতুন আইনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:

গণপিটুনিতে নতুন শাস্তির বিধান:

বিদ্বেষপূর্ণ অপরাধের কারণে খুনের ঘটনায় ন্যূনতম শাস্তি সাত বছর থেকে বাড়িয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড করা হয়েছে।
গণপিটুনির ক্ষেত্রে অপরাধীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, এমনকি মৃত্যুদণ্ডও দেওয়া যেতে পারে।
জাতি, বর্ণ, সম্প্রদায় বা ব্যক্তিগত বিশ্বাসের কারণে ৫ জন বা তার বেশি ব্যক্তির দ্বারা হত্যা করা হলে তা ‘গণহত্যা’ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৩ (২) ধারার অধীনে শাস্তিযোগ্য হবে।

নতুন আইনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক:

নতুন আইনে FIR থেকে শুরু করে আদালতে বিচার প্রক্রিয়া পর্যন্ত সমস্ত কিছু অনলাইনে হবে।
দেশের বিভিন্ন আদালত ও থানায় রবিবার পর্যন্ত যে সাড়ে চার কোটি পেন্ডিং মামলা রয়েছে, সেগুলি পুরোনো আইন অনুযায়ীই নিষ্পত্তি করা হবে।
প্রথম FIR দিল্লিতে:

দিল্লির কমলা নগর মার্কেট থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, ২০২৩ আইনের অধীনে প্রথম FIR দায়ের করা হয়েছে।
একজন হকারের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ২৮৫ ধারার অধীনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগ, ওই হকার নয়াদিল্লি রেল স্টেশনের ওভারব্রিজে জায়গা দখল করে ঠেলা বসিয়েছিলেন।

নতুন ফৌজদারি আইনগুলি দেশের আইন প্রয়োগ ব্যবস্থায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে। বিশেষ করে, গণপিটুনি ও বিদ্বেষপূর্ণ অপরাধের ক্ষেত্রে শাস্তির বিধান অনেক কঠোর করা হয়েছে। নতুন আইন কার্যকরভাবে কতটা বাস্তবায়িত হয় এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এর কতটা ভূমিকা থাকে, তা সময়ই বলে দেবে।