বিশেষ: রাসেল ভাইপার নিয়ে যেসব ভুল ধারণা জনমনে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে, জেনেনিয়ে সতর্ক থাকুন

রাসেল ভাইপার সম্পর্কে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু ভুল তথ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে যার ফলে সাধারণ জনগণের মাঝে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এই সাপ চন্দ্রবোড়া বা উলুবোড়া নামেও পরিচিত। বিশ্বের বিভিন্ন অংশ থেকে উৎসারিত বিভ্রান্তিকর কিছু পোস্ট এ ধরণের সাপ, এর বিপদ ও ব্যাপকতা সম্পর্কে ভুল ধারণা দিয়ে আসছে।

চলুন জেনে নেয়া যাক রাসেল ভাইপার সম্পর্কে কিছু ‘সঠিক’ তথ্য-

রাসেল ভাইপার মূলত একটি বিষাক্ত সাপ যা প্রাথমিকভাবে ভারত, তাইওয়ান ও ইন্দোনেশিয়াতে দেখা যায়।

রাসেল ভাইপার ভারতীয় উপমহাদেশের ভিপেরিডি পরিবারের একটি অত্যন্ত বিষাক্ত সাপ এবং ভারতের সবচেয়ে ভয়ংকর চারটি সাপের মধ্যে একটি। এ প্রজাতি সাপের নামকরণ করা হয়েছে প্যাট্রিক রাসেলের নামে, একজন স্কটিশ হারপেটোলজিস্ট যিনি ১৭৯০ এর দশকে ভারতের অনেক সাপের বর্ণনা করেছিলেন।

উলুবোড়া নামেও পরিচিত এই সাপ মূলত খোলা পরিবেশ যেমন কৃষি জমিতে বেশি বিচরণ করে যেখনে ইঁদুর শিকারে এর সুবিধা হয়।

রাসেল ভাইপারের দেহ মোটাসোটা, লেজ ছোট ও সরু। প্রাপ্তবয়স্ক সাপের দৈর্ঘ্য ১.৫-১.৮ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে ও এটিকে হালকা লালচে-বাদামী ও সাদাকালো দাগে চিহ্নিত করা হয়ে থাকে।

রাসেল ভাইপার আসলে কতটা বিষাক্ত

বিশ্বের অনেক হারপেটোলজিস্টের মতে, রাসেল ভাইপার বিশ্বের ‘বিষাক্তধর’ সাপ নয়। ব্ল্যাক মাম্বা ও পাফ অ্যাডার প্রজাতির সাপগুলো শক্তিশালী বিষ ও আক্রমণাত্মক প্রকৃতির জন্য এদের সবচেয়ে বিপজ্জনক বিবেচনা করা হয়।

যদিও অত্যন্ত বিষাক্ত এবং ভারতে অসংখ্য সাপের কামড়ে মৃতের ঘটনার জন্য দায়ী, রাসেলের ভাইপারকে ‘কম আক্রমণাত্মক’ বলে বিবেচনা করা হয়।

রাসেল ভাইপার শীর্ষ ৩০টি বিষধর সাপের মধ্যেও স্থান পায় না। তিনি জানান, মূলত ‘বিলম্বিত চিকিৎসার’ কারণে এ সাপের কামড়ে প্রাণহানি ঘটে এবং প্রায় ৭০ ভাগ আক্রান্ত ব্যক্তিরা বেঁচে যায় যদি দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। আর ৯০ ভাগ মানুষ বেঁচে যায় যদি সঠিকভাবে যত্ন নেয়া হয়।

রাসেল ভাইপার মানুষের থেকে দূরে থাকতে পছন্দ করে ও চাইলেই তা মানুষকে আক্রমণ করতে চায় না। বেশির ভাগ সাপের কামড় ঘটে যখন মানুষ এটিকে উস্কে দেয় ও অসাবধানতাবশত সামলানোর চেষ্টা করে।

তবে মজার বিষয় হল – রাসেল ভাইপার বেশ ‘অলস’, বিরক্ত না হলে এক জায়গাতেই অনেকদিন থাকে।

গ্রামবাসীদের দ্বারা শিয়াল, মনিটর টিকটিকি ও বেজিদের মতো প্রাকৃতিক শিকারী হত্যা পরিবেশগত ভারসাম্যকে ক্ষতি করেছে, যার ফলে সাপের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। এ সব প্রাকৃতিক শিকারীরা সাপের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছিল, ফলে এদের সংখ্যা কমে যাওয়ায় মানুষ-সাপের মুখোমুখি হওয়ার ঘটনা বেশি করে ঘটছে।