“গৃহকর্মীর চেয়ে পোষা কুকুরের পেছনে বেশি ব্যয়”-হিন্দুজা পরিবারকে বড় সাজা দিলো সুইস কোর্ট

চার ভারতীয় বংশোদ্ভূত বিজনেস টাইকুন প্রকাশ হিন্দুজা, তার স্ত্রী, পুত্র, পুত্রবধূর বিরুদ্ধে বাড়ির বাড়ির দুর্বল গৃহকর্মীদের ওপর নির্যাতন ও শোষণ করার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে সাজা দিয়েছে সুইস কোর্ট।

শুক্রবার (২১ জুন) সুইস ফৌজদারি আদালত হিন্দুজা পরিবারের চার সদস্যকে দোষী সাব্যস্ত করে সাড়ে চার বছরের কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয়। তাদের বিরুদ্ধে মানবপাচারের অভিযোগও রয়েছে।

যাদের পাচার করা হয়েছে তাদের অধিকাংশই নিরক্ষর ভারতীয় ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। হিন্দুজা পরিবারের সদস্যরা জেনেভাতে বিলাসবহুল লেকসাইড ভিলায় পরিচারকদের নিয়োগ করেছিল বলেও অভিযোগ। আদালতে শুনানির সময় পরিবারের চার সদস্য ছিলেন না। উপস্থিত ছিলেন নাজিব জিয়াজি। তিনি হিন্দুজা পরিবারের ব্যবসায়িক ব্যবস্থাপক। তাকে ১৮ মাসের স্থগিত সাজা দেওয়া হয়েছিল।

আদালত বলেছে, পরিবারের চারজনই শ্রমিক শোষণ ও অননুমোদিত কর্মসংস্থানের জন্য দায়ী ছিল। যদিও আদালত মানব পাচারের অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছে।

আদালতে কৌঁসুলি ইভেস বারতোসা বলেন, একজন গৃহকর্মীর চেয়ে তারা তাদের একটি পোষা কুকুরের জন্য বেশি অর্থ ব্যয় করে থাকেন। কৌঁসুলিরা দাবি করেন, একজন নারী গৃহকর্মীকে দিনে ১৮ ঘণ্টা কাজের বিনিময়ে পারিশ্রমিক দেওয়া হয় মাত্র ৬ দশমিক ১৯ সুইস ফ্রাঁ। সপ্তাহের সাত দিনই তাদের দিয়ে কাজ করানো হয়ে থাকে।

কৌঁসুলি আরও বলেন, গৃহকর্মীদের সঙ্গে চাকরির চুক্তিতে কর্মঘণ্টার বা সাপ্তাহিক ছুটির বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো কিছুর উল্লেখ থাকে না। কর্মীদের পাসপোর্টও এ পরিবার নিজেদের জিম্মায় নিয়ে নেয়। এসব কর্মীর কাছে খরচ করার মতো কোনো সুইস ফ্রাঁও থাকে না। কারণ তাদের বেতন পরিশোধ করা হয় ভারতে।

আদালতকে কৌঁসুলি বলেন, চাকরিদাতার অনুমতি ছাড়া গৃহকর্মীরা বাড়ির বাইরে যেতে পারেন না। এ পরিবারে তাদের কোনো স্বাধীনতা নেই।

হিন্দুজা পরিবারের চার সদস্যের বিরুদ্ধে শ্রমিকদের পাসপোর্ট বাজেয়াপ্ত করার পাশাপাশি মাইনে দেওয়া নিয়েও বেআইনি কাজের অভিযোগ করা হয়েছে। হিন্দুজা পরিবারের সদস্যরা শ্রমিকের বেতন টাকায় প্রদান করত, সেই দেশের সুইস ফ্রাঙ্কে বেতন দিত না। তাদের বিলাসবহুল ভিলা ছেড়ে অন্যত্র যেতে নিষেধ করা হয়েছিল। সুইজারল্যান্ডে অর্থের জন্য তাদের দীর্ঘদিন ধরেই কাজ করতে বাধ্য করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ উঠেছিল।

গত সপ্তাহেই এই ফৌজদারি মামলা আদালতে ওঠে। জেনেভার আদালতে শোষণ, মানব পাচার, সুইস শ্রম আইন লঙ্ঘন-সহ একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। হিন্দুজা পরিবার কয়েক দশক ধরেই সুইজারল্যান্ডে বাস করছে।