“কেন আপনি ওখানেই ধরনা দিতে চাইছেন?’-শুভেন্দুর আর্জি পত্রপাঠ খারিজ করে দিলো হাইকোর্ট

সম্প্রতি ভোট পরবর্তী হিংসায় আক্রান্তদের নিয়ে শুভেন্দু অধিকারী গিয়েছিলেন রাজ্যপালের সাথে দেখা করতে। কিন্তু তিনি সেই সময় পুলিশি বাধার মুখে পরে সকলকে নিয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হন। আর এবার শুভেন্দু অধিকারী আক্রান্তদের সাথে নিয়ে রাজভবনের সামনে ধর্নায় বসতে চেয়ে ১৩ জুন পুলিশের কাছে আবেদন জানান শুভেন্দু অধিকারী। পুলসিঃ সেই আবেদন খারিজ করলে শুভেন্দু অধিকারী দ্বারস্থ হন কলকাতা হাইকোর্টে।

তিনি আদালতে দাবি করেন যে এর আগে ১০০ দিনের কাজের টাকার দাবিতে অভিষেক ব্যানার্জিকে ধর্নায় বসতে দেয়া হয়েছিল কিন্তু পুলিশ কেন শুভেন্দু কে অনুমতি দিচ্ছে না ? তা নিয়েই আদালতে করা হয় মামলা।

মামলকারীদের আইনজীবী বিলদ্বল ভট্টাচার্য বলেন, “ভোট পরবর্তী হিংসার শিকার যাঁরা, তাঁদের নিয়ে ধর্না দিতে চান।”

বিচারপতি সিনহা শুভেন্দুকে প্রশ্ন করেন, “ওখানেই কেন অবস্থানে বসতে হবে? শাসক দল বসেছিল বলে?”

মামলাকারীদের আইনজীবী বলেন, “আমরা মনে করি রাজ্যপাল রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান সেই কারণে আমরা রাজভবনের সামনে ধর্না দিতে চাই।”

মামলাকারী আরও বলেন, “যদি বলতো আজ সপ্তাহের মাঝে কোনও দিন, তাহলে আমরা শনি না রবিবার বসতে পারি। কিন্তু আমাদের অনুমতি কেন দেওয়া হচ্ছে না কেন?” আদালতে উল্লেখ করা হয়, ঠিক ওখানেই শাসক দল ধর্না দিয়েছে, এমনকি স্টেজ করে। তাহলে এক্ষেত্রে অনুমতি দেওয়া হবে না?

বিচারপতি সিনহা প্রশ্ন করেন, “এই প্রশাসনিক কারণটা কী?”

এডভোকেট জেনরাল বলেন, “মামলাকারী যে আবেদন করেছেন, সেটা কি আদৌ আবেদন বলা যায়? ওঁ প্রশ্ন করেছেন এর আগে ধর্না যখন হয়েছিল তখন কোনও ১৪৪ ধারা উবে গিয়েছিল?”

বিচারপতি আরও বলেন, “একজন করতে পারল, একজন করার অনুমতি পেলো না, এটা হলে তো অসাম্যের অভিযোগ উঠবেই। আমি নেগেটিভ ইকুয়ালিটির কথা বলতে পারিনা।”

বিচারপতি সিনহা এজিকে প্রশ্ন করেন, “আপনি বললেন ওই এলাকায় নিরাপত্তার স্বার্থে ১৪৪ ধারা জারি থাকে। তাহলে ওই সময় যারা ১৪৪ ধারা ভেঙে যাঁরা ধর্না দিয়েছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কি আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে” এজি বলেন, “আমাকে ইন্সট্রাকশন নিয়ে বলতে হবে।”

বিচারপতির ফের প্রশ্ন মামলাকারীর আইনজীবীকে বলেন, ” কেন আপনি ওখানেই ধরনা দিতে চাইছেন? এর আগে কেউ আইন ভেঙে ধরনা দিলে আরেক জনকেও কি ১৪৪ ভেঙে ধরনা দিতে হবে? তাহলে তো পরশু অন্য কেউ একই আবদার করবে।”