বিশেষ: পুকুরের জলে ইলিশ চাষের গবেষণায় মিললো সাফল্য, এবার সস্তায় মিলবে রুপোলি শস্য?

দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান! মৎস্য বিজ্ঞানীদের গবেষণার মাধ্যমে এবার পুকুরেই চাষ করা যাবে ইলিশ মাছ। বছর ভর পাওয়া যাবে এই সুস্বাদু মাছ।

সেন্ট্রাল ইনল্যান্ড ফিসারিজ রিসার্চ ইনস্টিটিউট (সিফরি)-এর তত্ত্বাবধানে আবদ্ধ জলে ইলিশ চাষের এই উদ্যোগ শুরু হয়েছে এবং সফলও হয়েছে। প্রায় ৭০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ উৎপাদন করে নতুন রেকর্ড স্থাপন করেছে এই প্রকল্প।

এই সাফল্যের ফলে বাঙালির প্রিয় মাছ ইলিশ এখন সমুদ্র বা নদীর উপর নির্ভরশীল নয়। যে কোনো ঋতুতেই পুকুর থেকে ইলিশ পাওয়া যাবে।

কোলাঘাট ব্লকের জামিট্যা এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে শুরু করা হয়েছে এই চাষ। জু-প্ল্যাঙ্কটন ব্যবহার করে খাদ্য হিসেবে খাওয়ানো হচ্ছে ইলিশকে।

আইসিএআর-সেন্ট্রাল ইনল্যান্ড ফিসারিজ রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর ডক্টর বসন্ত কুমার দাস বলেন, “পুকুরের জলে ইলিশ মাছ চাষ নিয়ে আমাদের গবেষণামূলক প্রকল্প অনেকটাই সফল। মাত্র ৩৬ মাসে একটি ইলিশের ওজন হয়েছে **প্রায় ৭০০ গ্রাম।”

পুকুরে ইলিশ চাষের এই সাফল্যে আশাবাদী আইসিএআর-সেন্ট্রাল ইনল্যান্ড ফিসারিজ রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর ডক্টর বসন্ত কুমার দাস। তিনি বলেন, “শুধু ইলিশ প্রতিপালন নয়, ইলিশের প্রজনন ঘটিয়ে ইলিশ উৎপাদনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।”

এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাঙালির প্রিয় মাছ ইলিশ সারা বছর পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। নদী ও সমুদ্রে ইলিশের পরিমাণ কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে পুকুরে ইলিশ চাষ একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

এই প্রকল্প ইতিমধ্যেই রাজ্যের তিনটি জায়গায় শুরু করা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, আগামী দিনগুলোতে আরও ব্যাপকভাবে পুকুরে ইলিশ চাষ করা সম্ভব হবে।

এই সাফল্য নদী ও সমুদ্রে ইলিশের হ্রাস পাওয়া মাছের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ইলিশ চাষের এই নতুন পদ্ধতি শুধু ইলিশ উৎপাদনই বাড়াবে বলে মনে করা হচ্ছে।