সাপে কামড়ালেও কর্তব্যে অনড় চিকিৎসক, স্যালাইনের চ্যালেন হাতে রোগী দেখলেন চিকিৎসক

শুক্রবার রাতে সাপে কামড়ানোর পরও রবিবার সৃজিতা সাহা নামের এক চিকিৎসক ধূপগুড়ি মহকুমা হাসপাতালে ১২ ঘণ্টা রোগী দেখেছেন। হাতে স্যালাইন নিয়েই তিনি রোগীদের চিকিৎসা করেছেন।

শুক্রবার রাতে ডিউটি শেষ করে বাড়ি ফেরার সময় সৃজিতা সাহাকে সাপে কামড়ায়।অন্ধকারে কোন সাপ তা দেখতে না পেলেও তিনি বুঝতে পারেন যে তাকে কামড়ানো হয়েছে।তীব্র যন্ত্রণা সত্ত্বেও তিনি রাতারাতি নিজের পুরোনো কর্মক্ষেত্র ময়নাগুড়ি হাসপাতালে গিয়ে ভর্তি হন।শনিবার সারাদিন হাসপাতালে থাকার পর রবিবার সকালে তিনি ধূপগুড়ি মহকুমা হাসপাতালে ফিরে আসেন।

রবিবার হলেও হাসপাতালে রোগীর চাপ ছিল বেশি। অনেক রোগী দীর্ঘক্ষণ ধরে অপেক্ষা করছিলেন।নিজের অসুস্থতার কথা ভেবে না, সৃজিতা হাতে স্যালাইন নিয়েই রোগী দেখা শুরু করেন।টানা ১২ ঘণ্টা কাজ করার পর রাত ৮ টায় তিনি নিজের বাসায় ফিরে যান।

সৃজিতা সাহার বক্তব্য:

“শুক্রবার রাতে সাপে কামড়ানোর পর আমার শরীর খারাপ ছিল। তবে রবিবার আমার ডিউটি ছিল। তাই রোগীদের কথা ভেবে কাজে যোগদান করি। মাঝে মধ্যে অসুস্থ বোধ করলেও হাল ছেড়ে দিইনি।”
“হাসপাতালে চিকিৎসকের সংখ্যা কম। রবিবার অনেক চিকিৎসক ছুটিতে ছিলেন। তাই একা একাই সব রোগীদের দেখতে হচ্ছিল।”

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য:
“ধূপগুড়ি মহকুমা হাসপাতালে সাপের উপদ্রব নতুন নয়। নিয়মিত পরিষ্কার করা হয়।”

“শুক্রবার সৃজিতা সাহাকে সাপে কামড়ানোর পর তাকে অবিলম্বে চিকিৎসা দেওয়া হয়।”

“হাসপাতালে চিকিৎসকের সংখ্যা কম। নতুন করে চিকিৎসক নিয়োগের জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।”

এই ঘটনা তুলে ধরেছে গ্রামীণ এলাকায় স্বাস্থ্যসেবার নাজুক অবস্থা।