মোমবাতি, টর্চের আলোয় প্রসব বরাকর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে, সুস্থ রয়েছে মা ও শিশু

বুধবার বিকেলে ঝড়ের কারণে আসানসোল মহকুমার বিস্তীর্ণ এলাকায় বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দেয়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কুলটির বরাকরের আর্বান ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বিদ্যুৎ ফেরেনি।
ফলে চরম বিপর্যয়ে পড়ে প্রসব বরদায়ক রোগীরা। মোমবাতি ও টর্চের আলোয় এক প্রসবিতা মহিলার সন্তান প্রসব করাতে বাধ্য হন চিকিৎসকরা।

বুধবার রাতে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে জরুরী ব্যবস্থা হিসেবে মোমবাতির ব্যবস্থা করা হয়।চিরকুন্ডার এক প্রসবিতা মহিলা মোমবাতির আলোয় সন্তান প্রসব করেন।বিদ্যুৎ না থাকায় সদ্যোজাত শিশু ও মা স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে চলে যান।আরেক প্রসব বরদায়ক রোগীকে পরিবার পরিস্থিতি বিবেচনা করে আসানসোল জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।ডায়রিয়ায় আক্রান্ত এক রোগীকেও অন্যত্র চলে যেতে হয়েছে।বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজে সংরক্ষিত পোলিও, হেপাটাইটিস বি-সহ বিভিন্ন ভ্যাকসিনের গুণমান নিয়ে উদ্বিগ্ন চিকিৎসকরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ:
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, দু’দিন ধরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বিদ্যুৎ না থাকা অস্বাভাবিক।ঝড়ের পর গাছের ডাল ভেঙে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে গেলেও দীর্ঘক্ষণ ধরে তা মেরামত করা হচ্ছে না।রোগীদের চিকিৎসার অধিকার লঙ্ঘন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

প্রশাসনের বক্তব্য:
আসানসোল পুরসভার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শীঘ্রই ১০০ শয্যার একটি পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে।বরাকর বিদ্যুৎ দপ্তরের দাবি, বুধবার ঝড়ের সময় গাছ ভেঙে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে গেলেও সন্ধ্যা ৭টায় বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা হয়েছে।

রাজনৈতিক বিতর্ক:
বিজেপির স্থানীয় বিধায়ক অজয় পোদ্দার অভিযোগ করেছেন, তৃণমূল প্রশাসন ইচ্ছাকৃতভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রেখেছে।তৃণমূলের জেলা চেয়ারম্যান উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায় অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।