বাংলা জুড়ে আক্রান্ত BJP-কর্মীরা, নেতারা পাশে দাঁড়াচ্ছেন কোথায়? প্রশ্ন দলেই

লোকসভা নির্বাচনের পর বিজেপির ব্লক ও বুথ স্তরের নেতারা ক্রমাগত দলের শীর্ষ নেতাদের ফোন করে সন্ত্রাসের অভিযোগ করছেন। কেউ আপনার পাশে থাকতে চায়। যে কেউ কলকাতায় ‘আশ্রয়’ খুঁজছেন। কিন্তু উপরের তলা কোথায়? ভোটের প্রচারে কেন বিজেপির তৃণমূল কর্মীদের টার্গেট করা হয়েছে গত পাঁচ-সাত দিনের বঙ্গ বিজেপির শীর্ষ নেতাদের কর্মকাণ্ড দেখলেই বুঝবেন তাঁরা নিজেদের মধ্যেই ব্যস্ত।কার দোষে দল ডুবছে তা নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া চলছে।

বিষ্ণুপুর লোকসভা কেন্দ্রে নির্বাচনের পরে হাতে গোনা কয়েকজন বিজেপি নেতা ছাড়া কাউকে জেলায় গিয়ে কর্মীদের সঙ্গে দাঁড়াতে দেখা যায় না বলে অভিযোগ। বাড়ির বাইরে বহু বিজেপি কর্মী উপস্থিত। সৌমিত্র খান, যার কাছ থেকে তিনি জেতার ঝুঁকিতে রয়েছেন, বুধবার একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে শিলিগুড়িতে ছিলেন। তবে তার সাফ, আমার এলাকায় অনেক সন্ত্রাস চলছে, তা নয়। কিন্তু প্রতিদিন কিছু ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বিজেপি নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি।

নির্বাচনের পর সন্ত্রাসের কবলে পড়েছে কোচবিহারও। এলাকার বহু বিজেপি কর্মী কলকাতায় দলের ‘শেল্টার হাউসে’ চলে গেছেন। কিন্তু নিশীথ প্রামাণিক কোথায়? কোচবিহারের স্থানীয় বিজেপি কর্মীরা অভিযোগ করেছেন যে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকে তাদের এলাকায় দেখা যায়নি। বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তিনি দিল্লিতে রয়েছেন সহসভাপতি জগদীপ ধনখরের সঙ্গে। তার ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, তিনি নির্বাচন-পরবর্তী সন্ত্রাস নিয়ে কথা বলেননি, সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়ে কথা বলেছেন।

কোচবিহারের এক মণ্ডল স্তরের বিজেপি নেতার কথায়, ‘নিশীথ একজন আন্তরিক কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। দিল্লিতে তার বড় যোগাযোগ রয়েছে। তিনি চাইলে দিল্লির আদালতকে আমাদের পরিস্থিতি জানাতে পারতেন।’ নিশীথ দিল্লিতে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ কাজে ব্যস্ত থাকলেও বিধানসভার বিরোধীদলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারী কোচবিহারে যাওয়ার জন্য তাড়াহুড়ো শুরু করেছেন। শুভেন্দুর ঘনিষ্ঠ সূত্রে খবর, দু-একদিনের মধ্যেই উত্তরবঙ্গে উড়ে যাবেন তিনি। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবারে নির্বাচনের পর সন্ত্রাসের অভিযোগ তুলেছে বিজেপি।

এ নিয়ে কলকাতা থেকে বিজেপি নেতাদের অনেক সংবাদ সম্মেলন করতে দেখা গেছে, কিন্তু বাংলা-বিজেপির কত বড় নেতা সেখানে কর্মীদের সঙ্গে দাঁড়িয়েছেন? মঙ্গলবার নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর প্রথমবার সেখানে গিয়েছিলেন শুভেন্দু। আমতলায় বিজেপি দলে গিয়ে দলীয় কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। বুধবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শুভেন্দু বলেন, “পুরো রাজ্যে তৃণমূল ব্যাপকভাবে সন্ত্রাস ছড়াচ্ছে। 2021 সালের বিধানসভা নির্বাচনের পরেও আমরা এটি দেখেছি। আমরা সব সময় কর্মীদের পাশে আছি।