মুণ্ডহীন দেহ উদ্ধারের পরই হিংসার সূত্রপাত, কী ভাবে রাতারাতি ‘জ্বলে’ উঠলো মণিপুরের জিরিবাম?

গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে অশান্ত মণিপুর। লোকসভা নির্বাচনের পর আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে উত্তর-পূর্বের এই রাজ্যে। জাতিগত সংঘর্ষের কেন্দ্রবিন্দু এবার জিরিবাম।
কী ঘটছে জিরিবামে?
গত ৬ই জুন জিরিবাম জেলায় এক মেইতেই সম্প্রদায়ের চাষি সইবাম শরৎকুমারের (৫৯) শিরচ্ছেদ করা মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, কুকি জাতিগোষ্ঠীর সদস্যরা তাকে হত্যা করেছে। এর প্রতিবাদে মেইতেই গ্রামবাসীরা থানা ঘেরাও করে এবং নিজেদের নিরাপত্তার জন্য অস্ত্র ব্যবহারের অধিকার দাবি করে।
এরপর কুকি গ্রামগুলোতে হামলার খবর পাওয়া যায়। ভেংনুয়াম গ্রামে একটি চার্চে আগুন দেওয়া হয় এবং বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়।কুকি সম্প্রদায়ের ৪৫ জনের বাড়ি ভেঙে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ। এছাড়াও, এল লাল্লিয়াংমুয়াং নামে এক ৪০ বছর বয়সী ব্যক্তিকে অপহরণ করা হয়েছে বলে খবর।
জিরিবামে সফরের সময় মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিংয়ের কনভয়েতেও হামলা চালানো হয়।
এই ঘটনাগুলোর কারণ কী?
সইবাম শরৎকুমারের হত্যাকাণ্ডকেই এই নতুন সহিংসতার সূত্রপাত হিসেবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরেই মেইতেই ও কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে জমি ও প্রভাব নিয়ে দ্বন্দ্ব চলে আসছে। এই দ্বন্দ্বই মাঝে মাঝে সহিংস রূপ নেয়।সম্প্রতি অনুষ্ঠিত লোকসভা নির্বাচনে জিরিবাম জেলার একটি আসন নিয়ে মেইতেই ও কুকিদের মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছিল।
বর্তমান পরিস্থিতি:
জিরিবাম জেলায় কারফিউ জারি করা হয়েছে।পুলিশ ও সেনাবাহিনী এলাকায় মোতায়েন রয়েছে।উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা এখনও চরমে।
এই সংঘাতের সমাধান কী?
দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের জন্য মেইতেই ও কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে জমি ও প্রভাবের বিরোধ সমাধান করা জরুরি।সরকারকে উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যে বিশ্বাস বৃদ্ধির পদক্ষেপ নিতে হবে।সহিংসতায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।