যোগীর উপর ‘বুলডোজার’ চালাতে প্রস্তুত মোদি-অমিত শাহ!- জেনেনিন কি বলছে পরিস্থিতি?

এবারের নির্বাচনে ‘মোদি ম্যাজিক’ কাজে লাগেনি, তাই দারভার অনেকটাই স্থানীয় নেতৃত্বের ওপর পড়েছে। অবশ্য এমনটাই রেওয়াজ হয়ে দাঁড়িয়েছিল গেরুয়া শিবিরে। বিজেপি সূত্রের উল্লেখ করে সংবাদ প্রতিদিন জানিয়েছে, এবার পরাজয়ের দায় নিয়ে যোগী আদিত্যনাথকে মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ার ছাড়তে হতে পারে বলে। যোগীর উপর ‘বুলডোজার’ চালানোর প্রস্তুতি শুরু করেছে মোদি-অমিত শাহ জুটি!

বিজেপির জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠকে যোগীকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হতে পারে বলে মনে করছে দলের একাংশ। এছাড়াও কয়েকটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও বিরোধী দলনেতাদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে বলে জল্পনা। এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও আছেন বলে পদ্ম শিবির সূত্রে খবর।

নরেন্দ্র মোদি বিপুল সংখ্যক আসন নিয়ে ক্ষমতায় ফিরলে শুধু অবিজেপি নয়, বিজেপিশাসিত বহু মুখ্যমন্ত্রীকে সরিয়ে দেবেন বলে প্রচারে বারে বারে বলেছেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল। অর্ন্তবর্তী জামিনে মুক্ত দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, সবচেয়ে আগে গদি হারাবেন যোগী আদিত্যনাথ। উত্তরপ্রদেশে লোকসভা ভোটে বিজেপির লজ্জাজনক হারের পর এখন জেলবন্দি কেজরিওয়ালের কথাই বিজেপির অন্দরে মূল আলোচ্য।

দুই বছর আগের বিধানসভা ভোটে বিপুল জয়ের পর যোগীর নতুন ডাকনাম হয়েছে ‘বুলডোজার বাবা’। ছোটখাটো অন্যায়েও তাঁর প্রশাসন বুলডোজার পাঠিয়ে অভিযুক্তের ঘরবাড়ি ভেঙে দিচ্ছে, তা নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত মামলা গড়ালেও যোগীকে টলানো যায়নি। এবার লোকসভা ভোটের মধ্যেও অব্যাহত ছিল যোগী প্রশাসনের বুলডোজার শাসন।

এবারের লোকসভা নির্বাচনে উত্তর প্রদেশের ৮০টি আসনের সব ক’টিই এবার জয়ের লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছিল বিজেপি। প্রতি দফা ভোটের শেষেই রাজ্য বিজেপি এবং মুখ্যমন্ত্রী যোগী দলকে আশ্বস্ত করেন, দলের পরিকল্পনা মতোই সব এগিয়েছে। কিন্তু ফল হয়েছে উলটো। গতবার আশিটির মধ্য বিজেপি পেয়েছিল ৬২টি আসন। এবার তা কমে হয়েছে ৩৩। অন্যদিকে, প্রধান প্রতিপক্ষ সমাজবাদী পার্টি পেয়েছে ৩৭টি আসন।

উত্তরপ্রদেশে বিজেপির নির্বাচনী দায়িত্বে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী ছাড়াও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, দলীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা প্রমুখ। তবে মূল দায়িত্ব ছিল যোগীর। বিশেষ করে তীব্র গরমের কারণে প্রথম দুই দফায় কম ভোট পড়া সত্ত্বেও তার প্রশাসন বুথে পানীয় জলের ব্যবস্থা এবং মানুষকে বুথমুখী করতে বিশেষ তৎপরতা দেখাননি। রাজ্যের প্রায় এক কোটি পরিযায়ী শ্রমিককেও ভোটের সময় এলাকায় ফেরাতে তৎপর হয়নি যোগী প্রশাসন।

সব মিলিয়ে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর দিকেই খারাপ ফলের জন্য আঙুল উঠছে বেশি। বিজেপির অন্দরের খবর, নতুন সরকার শপথ নেওয়ার পর দলের জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠকে উত্তরপ্রদেশ-সহ আরও কয়েকটি রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রী এবং বিরোধী দলনেতা এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের সরিয়ে দিতে পারেন মোদি-শাহ-নাড্ডা জুটি।