বিশেষ: কন্যাকুমারী শিলা, কেন এখানেই ধ্যানে বসেন মোদি?

৩০ মে থেকে ১লা জুন পর্যন্ত কন্যাকুমারী সফরে থাকবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কন্যাকুমারীতে ধ্যানে বসেন তিনি। কন্যাকুমারীর বিবেকানন্দ শিলায় তিনি বসে ধ্যান বসেন। কিন্তু, মোদি ধ্যানের জন্য কেন এই শিলাকে বাছাই করলেন?

কথিত আছে, ১৮৯২ সালে এই শিলার উপর বসে স্বামী বিবেকানন্দ একবার ধ্যান করেছিলেন। স্বামী বিবেকানন্দ ১৮৯২ সালে যখন কন্যাকুমারীর তীরে পৌঁছেছিলেন, তখন তিনি দেখতে পান যে তীর থেকে কয়েক মিটার দূরে একটি দ্বীপ রয়েছে। যদিও সেই সময় সেখানে নৌকা চলছিল, তবে তিনি সাঁতার কেটে সেখানে পৌঁছানোর সিদ্ধান্ত নেন।

তিনি সাঁতার কেটে ঐ দ্বীপে পৌঁছন। তার পর সেই পাথরে বসে ধ্যান করেন। কথিত আছে, সেই সময়ে বিবেকানন্দ এই দ্বীপে তিন দিন তিন রাত ছিলেন। সেই ধ্যানের মাধ্যমে তিনি প্রকৃত জ্ঞান অর্জন করেছিলেন।

জানা যায়, ঐ তারিখে কন্যাকুমারীতে ধ্যান করার প্রায় এক বছর পর বিবেকানন্দ শিকাগোতে ধর্ম সম্মেলনে ভাষণ দিয়েছিলেন। সেই ভাষণ শুনে সারা বিশ্ব অবাক হয়ে গিয়েছিল। শিকাগোতে ধর্ম সম্মেলনে দেওয়া তার ভাষণ নিয়ে আজও আলোচনা হয়।

১৮৯৩ সালে শিকাগোতে স্বামীজির ভাষণ বিশ্বের সামনে ভারতের একটি শক্তিশালী ভাবমূর্তি তুলে ধরে। স্বামী বিবেকানন্দ তার বক্তৃতায় সেদিন সারা বিশ্বের সামনে ভারতীয়দের সহনশীলতা এবং সর্বজনীন গ্রহণযোগ্যতার কথা বলেছিলেন।

স্বামী বিবেকানন্দ তার বক্তৃতায় বলেছিলেন, আমি গর্বিত যে আমি এমন একটি দেশের বাসিন্দা যে দেশ সমস্ত ধর্ম এবং দেশের নির্যাতিত মানুষকে আশ্রয় দিয়েছে।

স্বামীজি সেদিন বলেছিলেন, নদী যেমন বিভিন্ন স্থান থেকে উৎপন্ন হয়ে বিভিন্ন পথ ধরে অবশেষে সমুদ্রের সাথে মিলিত হয়, তেমনই মানুষ তার ইচ্ছানুযায়ী বিভিন্ন পথ বেছে নেয়। যদিও এই পথগুলি ভিন্ন দেখাতে পারে, তবে প্রতিটি পথই ঈশ্বরের দিকে নিয়ে যায়।

মনে করা হয়, কন্যাকুমারীতে বঙ্গোপসাগর, ভারত মহাসাগর, আরব সাগরের মিলন হয়েছে। সেখানেই আলোকপ্রাপ্ত হন বিবেকানন্দ। হিন্দু ধর্মে কথিত, যেখানে শিবের জন্য তপস্যা করেছিলেন পার্বতী, সেখানেই রয়েছে ঐ শিলা। ঐ শিলার ওপর নাকি পার্বতীর পায়ের চিহ্নও রয়েছে।

সেই শিলা- ‘ধ্যানমণ্ডপম’-এ ধ্যানে বসছেন মোদি। প্রধানমন্ত্রী মোদি বৃহস্পতিবার বিকেলে কন্যাকুমারী পৌঁছান। ৩০ মে সন্ধ্যা থেকে ১ জুন সন্ধ্যা পর্যন্ত তিনি এখানেই ধ্যান করবেন।