রাইসির হেলিকপ্টার কীভাবে খুঁজে পাওয়া গেল? জানাল ইরানের সেনাবাহিনী

ইরানে রহস্যজনক হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় দেশটির প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির আবদুল্লাহিয়ানসহ নয় আরোহীই নিহত হয়েছেন। খারাপ আবহাওয়ার কারণে দুর্ঘটনার কবলে পড়ার বেল ২১২ মডেলের হেলিকপ্টারটির অনুসন্ধানেও ব্যাপক বেগ পেতে হয়েছে ইরানকে। এমনকি হেলিকপ্টারটি অনুসন্ধানে যুক্তরাষ্ট্রের কাছেও দেশটির তরফ থেকে সাহায্য চাওয়া হয়েছিল বলে জানা যায়। তবে শেষ পর্যন্ত রাইসিকে বহনকারী বিধ্বস্ত হেলিকপ্টারটির অবস্থান শনাক্তে নিজেদের তৈরি ড্রোন ব্যবহার করা হয় বলে বুধবার ইরানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে।

ইরানের সামরিক বাহিনী বলেছে, বিধ্বস্ত হেলিকপ্টারটি খুঁজে পেতে তুরস্ক একটি ড্রোন পাঠিয়েছিল। এতে নাইটভিশনসহ অত্যাধুনিক সরঞ্জাম ছিল। তা সত্ত্বেও হেলিকপ্টার বিধ্বস্তের স্থান শনাক্তে ব্যর্থ হয় তুর্কি ড্রোনটি।

ইরানের সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে বলেছে, তুরস্কের পাঠানো ড্রোনটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্তের স্থান সঠিকভাবে শনাক্তে ব্যর্থ হয়। পরে ড্রোনটি তুরস্কে ফিরে যায়। শেষ পর্যন্ত গত সোমবার ভোরে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর ড্রোন (ইরানে তৈরি) ও স্থল উদ্ধারকারী বাহিনী হেলিকপ্টার বিধ্বস্তের সঠিক স্থান উদঘাটন করে।

হেলিকপ্টার বিধ্বস্তের কারণ অনুসন্ধানের নির্দেশ দিয়েছেন ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ বাগেরি।

গত রোববার আজারবাইজানের সীমান্তবর্তী এলাকায় দুই দেশের যৌথভাবে নির্মিত একটি বাঁধ উদ্বোধন করতে গিয়েছিলেন রাইসি। সেখান থেকে ইরানের পূর্ব আজারবাইজান প্রদেশের রাজধানী তাবরিজে ফেরার পথে ১৯ মে স্থানীয় সময় দুপুরের দিকে হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়। হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর ব্যাপক অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। এতে সহায়তা করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, রাশিয়া ও তুরস্ক।

পরে গত সোমবার ভোরে পূর্ব আজারবাইজান প্রদেশের দুর্গম পাহাড়ি জঙ্গলের ভেতরে বিধ্বস্ত হেলিকপ্টারটির খোঁজ পাওয়া যায়। এরপর সব আরোহীর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে তেহরান।