OMG! ৮ বছর মুখ দিয়ে কিছু খেতে পারেনি তরুণী, রোগ নির্ণয়ে নাজেহাল চিকিৎসকরা

শারীরিক জটিলতার কারণে গত আট বছর ধরে একটা দানাও খেতে পারেননি লিভ রোজ নামে এক ব্রিটেনের নাগরিক। তরুণীর জটিল এক রোগ বুঝতেই নাজেহাল হয়ে যান চিকিৎসকেরা।
জানা গেছে, তিন বছর বয়স থেকে রোজের প্রায়ই ভীষণ পেটে ব্যথা হতো। তার বাবা-মা চিকিৎসকের পরামর্শ নিলেও তেমন কিছু ধরা পারেনি। তবে বয়স যখন ১৭ তখন রোজের জটিলতা আরো বেড়ে যায়। সেদ্ধ চিকেন এবং সাদামাঠা পাস্তা ছাড়া আর কিছু খেয়েই হজম করতে পারত না সে। বমি করে ফেলত।
পরে জানা যায়, রোজের পাকস্থলীতে পক্ষাঘাত হয়েছে। মেডিকেলের ভাষায় যাকে বলে গ্যাস্ট্রোপ্যারেসিস। ব্রিটেনের গ্যাস্ট্রোইন্টেস্টিনাল সোসাইটির (জিআই) সমীক্ষা বলছে, বিশ্বে যত মানুষ রয়েছেন, তাদের মধ্যে খুব অল্প সংখ্যকের এই রোগ রয়েছে।
চিকিৎসকরা জানান, গ্যাস্ট্রোপ্যারেসিস হয়েছে লিভের। তার পাকস্থলীর মধ্যে দিয়ে খুব ধীরে ধীরে নড়াচড়া করে খাবার। ক্রমে কার্যকারিতা কমতে থাকে তার নাড়ির।
সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকার খবরে জানা গেছে, প্রায়ই চিকিৎসকদের কাছে যেতেন রোজ। তারাও তাকে ফেরত পাঠিয়ে দিতেন। পরবর্তীতে মনস্তত্ত্ববিদের কাছে যেতেও বাধ্য হয়েছিলেন তিনি। কারণ, কেউ বুঝতেই পারতেন না, লিভের সমস্যাটা কোথায়।
রোজের রোগ নির্ণয়ের জন্য একবার একটি বিশেষ কেন্দ্রে সারা দিন রাখা হয়েছিল। দেখা হয়েছিল, কী খান তিনি। কেন খান না। শেষে চিকিৎসকেরা বুঝতে পেরেছিলেন, ইচ্ছা করে এসব করছেন না লিভ। ‘ইটিং ডিসঅর্ডার’ নেই তার। অর্থাৎ ওজন কমানোর জন্য ইচ্ছা করে কম খাচ্ছেন, এমন নয়।
লিভ জানায়, তার সমস্যাগুলো প্রথম মা-বাবাও বুঝতে পারেননি। তারা ভাবতেন, লিভ অবাধ্যতা করছেন। কথা শুনছেন না। লিভের কথায়, যতক্ষণ তোমার থেকে খাবার কেউ ছিনিয়ে না নেয়, ততক্ষণ বুঝবে না যে, এটা কত জরুরি।
অবশেষে ২০১৭ সালের মার্চে লিভের রোগ ধরা পড়ে। চিকিৎসকেরা কিছু পরীক্ষার মাধ্যমে বুঝতে পারেন তার সমস্যা কোথায়। প্রথমে লিভের পাকস্থলীতে বোটক্স ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়। যাতে তার পেশি খাবার ধরে রাখতে পারে, সেগুলো পরবর্তী অংশে চলাচলের জায়গা করে দিতে পারে।
গ্যাস্ট্রোপ্যারেসিস রোগের লক্ষ্মণগুলোর মধ্যে রয়েছে বমিভাব, কিছু খেলেই বমি, পেটে ব্যথা, পেটভার লাগা।
এখন লিভের হৃৎপিণ্ডে তারের মতো হিকম্যান লাইন প্রবেশ করানো হয়েছে। তার মাধ্যমেই প্রয়োজনীয় পুষ্টি পৌঁছে দেওয়া হয় লিভের শরীরে। যদিও তাতে সমস্যা কমেনি। যে নলের (ফিডিং টিউব) মাধ্যমে খাবার যায়, তা নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হয়। নয়তো সেপসিস পর্যন্ত হতে পারে। ওই টিউবের কারণে লিভের কিডনি, লিভারেও চাপ পড়ছে।
গত ৮ বছর ধরে মুখ দিয়ে কিছু খেতে বা পান করতে পারেনি তিনি। সবটাই নলের মাধ্যমে শরীরে যায়। এই পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে হয়েছে তাকে। খাবার দেখেও লোভ সংবরণ করতে হয়েছে।
লিভ জানায়, এখনো প্রিয় খাবারের স্বাদ মুখে লেগে রয়েছে তার। সেই স্মৃতি নিয়েই বেঁচে আছে। তার কথায়, খাবার জীবনের একটা বড় অংশ। যখন পরিবারের সবাই খায়, আমি সেই ঘরে থাকি না। আইসক্রিম খুব মিস করি।
সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা