প্রেসিডেন্টের মৃত্যুতে ইরানে আতশবাজি ফুটিয়ে উদযাপন, ভাইরাল সোশ্যাল মিডিয়ায়

ভয়াবহ হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি। এ ঘটনায় এরইমধ্যে দেশটিতে পাঁচ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এই মৃত্যুর ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছে। তবে এরমধ্যেই তার নিজ দেশের কিছু মানুষ প্রেসিডেন্টের নিহতের ঘটনায় আতশবাজি ফুটিয়ে উদযাপন করেছে।
সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলী খামেনির নির্দেশে একসময় রাইসি নৃশংসতা চালিয়েছেন। তিনি ১৯৮৮ সালে দেশটির হাজার হাজার কারাবন্দীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর ও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।
রাইসির মৃত্যুতে দেশটিতে যারা আতশবাজি ফুটিয়ে উদযাপন করেছেন তাদের মধ্যে অন্যতম মিনু মাজিদির মেয়েরা। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে মাহশা আমিনির মৃত্যু ঘিরে প্রতিবাদ দমনে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে যারা হতাহত হন তাদের মধ্যে একজন মিনু মাজিদি (৬২)। রাইসির মৃত্যুতে তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও পোস্ট করেছেন।
তাদের উদযাপনের পরেই দুই ইরানি নারী মারসেদেহ শাহিনকার ও সিমা মোরাদবেগি নেচে, মদ পান করে এবং হাসি দিয়ে রাইসির মৃত্যুর সংবাদে প্রতিক্রিয়া জানান। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রাইসির মৃত্যু ঘিরে আতশবাজি ফুটিয়ে উদযাপনের বিভিন্ন ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এসব ভিডিও এর সত্যতা যাচাই করা যায়নি বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
এছাড়া ইরান ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাইসি বিমান দুর্ঘটনার খবর শুনেই অনেকে উদযাপন শুরু করে। এ নিয়ে তেহরানের এক বাসিন্দা তাদের কাছে ভিডিও পাঠিয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, আসুন রাইসির হেলিকপ্টার দুর্ঘটনার সুসংবাদ উদযাপন করি। এছাড়া আরো অনেক ভিডিওতে রাইসির হেলিকপ্টার দুর্ঘটনার খবরে অনেককে উল্লাস করতে দেখা গেছে।
উল্লেখ্য, গত রোববার (১৯ মে) দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় অঞ্চলে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় রাইসিসহ দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং অন্যান্য কর্মকর্তাদের অপ্রত্যাশিত মৃত্যু ঘটে। তিনি গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর চলমান ইসরায়েলি নারকীয় গণহত্যার বিরুদ্ধে বেশ সোচ্চার ছিলেন। এছাড়া দখলদার ইসরায়েল ও তাদের পশ্চিমা মিত্রদের বিরুদ্ধেও বেশ কঠোর অবস্থান ছিলো তার।