200 কিমি বেগে চলছিল গাড়ি, ধাক্কায় ২ জনকে মেরে রচনা লিখেই ছাড় ব্যবসায়ীর নাবালক ছেলের!

গত শনিবার রাতে পুনের কল্যাণী নগরে ভয়াবহ মোটরবাইক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারায় ২৪ বছরের দুই ইঞ্জিনিয়ার – অনীশ আওয়াধিয়া এবং অশ্বিনী কোশতার।

২০০ কিলোমিটার বেগে বিখ্যাত রিয়েলটরের ১৭ বছরের নাবালক ছেলে, মদ্যপান করে ঝড়ের গতিতে পোর্শে গাড়ি চালিয়ে মোটরবাইকে ধাক্কা মারে।মোটরবাইকের দুই সওয়ারি প্রায় ২০ ফুট উড়ে গিয়ে মুখ থুবড়ে পড়ে এবং ঘটনাস্থলেই মারা যায়।১৫ মিনিটের মধ্যে নাবালককে গ্রেপ্তার করা হয়। কিন্তু মাত্র ১৫ ঘণ্টার মধ্যেই সে জামিন পেয়ে যায়।

জামিনের শর্তাবলী:
১৫ দিন ইয়েরওয়াড়ায় ট্র্যাফিক পুলিশের সঙ্গে কাজ করতে হবে।দুর্ঘটনা নিয়ে ৩০০ শব্দের রচনা লিখতে হবে।মদের নেশা ছাড়াতে ট্রিটমেন্ট এবং কাউন্সেলিং করাতে হবে।

প্রশ্ন উঠছে:
লঘু দণ্ড: দুই প্রাণ কেড়ে নেওয়ার জন্য এই শাস্তি কি যথেষ্ট? মাত্র চার মাস পরেই নাবালকের বয়স ১৮ বছর হবে। তাকে কি শুধুমাত্র নাবালক বলে শাস্তি থেকে অব্যাহতি দেওয়া উচিত? পুনে পুলিশ ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে নাবালককে সাবালক হিসেবে গণ্য করার আর্জি জানিয়েছিল। আদালত তা গ্রাহ্য করেনি। পুলিশ কি

এখন সেশনস কোর্টে যাবে? নাবালকের বাবা কি তার ছেলেকে মদ্যপান করে গাড়ি চালানোর অনুমতি দিয়েছিলেন? রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ কি নাবালকদের মদ পরিবেশন করেছে? তাদের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেওয়া হবে?

এই মর্মান্তিক ঘটনা তুলে ধরেছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন যার উত্তর খুঁজে বের করা প্রয়োজন। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া আশা করি।

পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের প্রাক্তন ডিজি অধীর শর্মা বলেন, ‘গাড়ি চালানোর বিষয়ে যে আইন রয়েছে, তাতে নাবালকদের গাড়ি না দেওয়ারই কথা, ফলে নাবালকদের বিরুদ্ধে মামলা করা যায় না। বিকল্প হিসেবে স্থির করা হয়েছিল, নাবালক কেউ গাড়ি চালালে গাড়ির মালিকের অথরাইজেশন লেটার সঙ্গে রাখতে হবে। কোনও দুর্ঘটনা ঘটলে পুলিশকে সেই অথরাইজেশন লেটার দেখাতে হবে। এটা কিছু ক্ষেত্রে চালু করা হয়েছিল। সম্ভবত সেই ব্যবস্থা প্রয়োগ করেই পুনের নাবালকের বাবার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।’

তবে তাঁর সংযোজন, ‘হিট অ্যান্ড রান কেসে সাজা হয়েছে, এমন নজির কম। আমাদের রাজ্যে এক সময় হিট অ্যান্ড রানে ৩০২ (খুনের ধারা) যুক্ত করার কথা ভাবা হয়েছিল। কিন্তু সেটা ধোপে টেকেনি।’