শারীরিক সম্পর্কের জন্য মনের মতো সঙ্গী মিলছে না, প্রেমিকা খুঁজতে ১১০০ কিমি চষে ফেলল বাঘ

তীব্র ভালোবাসার প্রমাণ আবারও! করোনাকালীন পরিযায়ী শ্রমিকদের মতই, লকডাউনের সময় বাড়ি ফিরতে কয়েক হাজার কিলোমিটার পাড়ি দিয়েছিলেন যারা। নিরাপদ আশ্রয় এবং সঙ্গীর খোঁজে একইভাবে, মহারাষ্ট্রের ব্রহ্মপুরী এলাকার তাডোবা জঙ্গলের একটি বাঘ প্রায় 1100 কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে ওড়িশায় পৌঁছেছে।
দীর্ঘ পথ, অসাধারণ যাত্রা:
টানা হেঁটে 4টি রাজ্য (মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড়, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা) পেরিয়েছে এই বাঘ।পথে জলাশয়, নদী, ধানক্ষেত, রাস্তা, মনুষ্য বসতি পেরিয়েছে।
রেডিও কলার না থাকায় বাঘের গতিবিধির উপর নজর রাখা কঠিন ছিল।গায়ের ডোরার প্যাটার্ন দেখে তাকে চিহ্নিত করা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতামত:
এতো লম্বা যাত্রাপথেও সে কারুর উপর হামলা করেনি।সাধারণত এই সময় বাঘ হামলা করে না।
ওড়িশার বনদফতরের তথ্য:
ওড়িশায় সাধারণত ছত্তিশগড় থেকে বাঘ আসে।কিন্তু এই প্রথম পশ্চিমের কোনও রাজ্য থেকে এতটা পথ পেরিয়ে পূর্বের রাজ্যে বাঘ এল।২০২২ সালের গণনা অনুযায়ী, গোটা ওড়িশায় মোট বাঘের সংখ্যা ২০।
সঙ্গীর সন্ধানে দীর্ঘ যাত্রা:
সূত্রের খবর, মধ্যপ্রদেশ থেকে সঙ্গীর সন্ধানে যাত্রা শুরু করেছিল বাঘটি।700 কিলোমিটার পথ হেঁটে ওড়িশার সুন্দরগড় জেলার বনাইতে পৌঁছায়।
তারপর বনাই থেকে প্রায় 400 কিলোমিটার দূর ময়ূরভঞ্জ জেলার সিমলিপাল টাইগার রিজার্ভে পৌঁছায়।মনে করা হচ্ছে এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে সিমলিপালের কেন্দ্রস্থলে পৌঁছায়।
সুখবরের আশা:
6 বছর বয়সী এই পুরুষ বাঘটির সঙ্গীর সন্ধান এবার রাজ্যের বৃহত্তম বাঘ সংরক্ষণের জঙ্গলে শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।দীর্ঘদিনের অপ্রজননের চক্র ভেঙে বাঘের জিনগত বৈচিত্র্য বৃদ্ধি পেতে পারে।
আগুনের ঝুঁকি:
শুক্রবার পর্যন্ত বন বিভাগ জানিয়েছে, দাবানলের কারণে সিমলিপাল এবছর 115 টি পয়েন্টে আগুনের সতর্কতা পেয়েছে।টাইগার রিজার্ভের আগুন নেভাতে বনকর্মী ও ওড়িশা ডিজাস্টার RAPID অ্যাকশন ফোর্সের সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।