বিশেষ: মানুষের আয়ু বাড়তে পারে ১২০ বছর পর্যন্ত, গবেষণায় বলছে বিজ্ঞানীরা

এক কাপ কফির দামেই যদি পাওয়া যায় এমন একটি পিল, প্রতিদিন যেটি খেয়ে ঠেকিয়ে দেয়া যাবে আপনার বার্ধক্য, তাহলে কেমন হয়? এরকম একটি ঔষধ বা অমরত্ব-সুধা আবিষ্কারের চেষ্টা চলছে বহু শত বছর ধরে। এখন ১০০ বছর কেউ বাঁচলে মনে করা হয়, তিনি লম্বা সময় বেঁচেছেন। কিন্তু এই সংখ্যা এবার পৌঁছে যাবে ১২০ বছরে। আর আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই বিজ্ঞানের অগ্রগতির ফলে এমনই হতে চলেছে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।
বিংশ শতাব্দীর গোড়া থেকে বিজ্ঞান এবং চিকিৎসা ব্যবস্থার দুর্দান্ত অগ্রগতির জন্য সারা বিশ্বে মানুষের আয়ু উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ভ্যাকসিন এবং সঠিক চিকিৎসা সুবিধার উন্নয়ন মানবজাতিকে বেশ কয়েকটি রোগের উপর জয়লাভ করতে সাহায্য করেছে যা কয়েক দশক আগে মারাত্মক বলে বিবেচিত হয়েছিল। কিন্তু এখানেই শেষ নয়। আরও কিছু ঘটতে চলেছে বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, মানুষের আয়ু সহজেই ১২০ বছরে পৌঁছে যেতে পারে। এর পেছনে অবদান রয়েছে স্টেম সেলের গবেষণার। যেদিকে পরিস্থিতি এগোচ্ছে, তাতে এই গবেষণা বহু ধরনের রোগ থেকে মানুষকে বাঁচিয়ে দিতে পারবে।
কীভাবে স্টেম সেল কাজ করে? বিজ্ঞানীরা যা বলেছেন, তা সহজ করে বলতে গেলে বিষয়টি এমন— এখনও পর্যন্ত আমরা প্রধানত যে সব ওষুধ খাই, সেগুলো হল রোগ আটকানোর ওষুধ (reactive medicine)। আর স্টেম সেল নিয়ে গবেষণা এমন ওষুধ তৈরি করতে পারছে, যা হল ক্ষয়পূরণকারী (regenerative medicine)।
আর এই ক্ষয়পূরণকারী ওষুধই করবে বাজিমাত। আর তাতেই বাড়বে গড় বয়স। তবে সেখানেও শেষ নয়। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই ঊর্ধ্বসীমা আরও বাড়ানো যেতে পারে। কীভাবে? স্টেম সেল ওষুধ এখনো আমেরিকার ফুড এন্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অনুমোদন করেনি। সেই অনুমোদন এসে গেলে আগামী দিনে এই বয়স পৌঁছে যেতে পারে ১৫০ বছরেও। এই শতাব্দীর শেষ দিকেই তেমন হয়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন তারা।