৮ লক্ষের ফাউন্টেন! ঝরনা কলম কিনতে লাইন ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের

কাচের কেসে সাবধানে রাখা জার্মানির স্ট্যাডলার কোম্পানির ব্যাভেরিয়া মডেলের ঝর্ণা কলম। সোনার নিব, গায়ে হিরের টুকরো বসানো এই কলমটির দাম ৭ লক্ষ ৭০ হাজার টাকারও বেশি। পাশের টেবিলে পর পর রাখা মঁ ব্লাঁ-র কলমগুলোর দামও ৩৫ হাজার টাকা থেকে ৬০ হাজার টাকার মধ্যে। কেনার সাধ্যতা না থাকলেও, দেখার আকাঙ্ক্ষা তো থাকেই। তাই পেন মহোৎসবে ভিড় কমছে না।
কালির স্পর্শে ইতিহাসের খোদাই:
ফ্রান্সের লেখিকা হ্যারিয়েট বিচার স্টো। তিনি নতুন ধরনের ঝর্ণা কলম দিয়েই লিখতে বসেছিলেন ‘আঙ্কল টমস কেবিন’ উপন্যাসটি। কৃষ্ণাঙ্গদের উপর নির্যাতনের বর্ণনা দিতে গিয়ে বারবার থেমে যেত তার হাত। কিন্তু ঝর্ণা কলমটি তাকে বিশ্বাসঘাতকতা করেনি। কেবল একটি উপন্যাস, একটি দেশের আইন বদলে দিয়েছিল। ইতিহাসে এমন ঘটনা বিরল।
বিজ্ঞানের জন্ম ঝর্ণা কলমের কালিতে:
মাথা ভর্তি ঝাঁকড়া চুল, চোখমুখ উদ্বিগ্ন। সুইস পেটেন্ট অফিসের কর্মী আলবার্ট আইনস্টাইন লম্বা কাগজে হাতির শুঁড়ের মতো চিহ্ন কেটে জটিল অঙ্ক কষে চলেছিলেন। কয়েক বছর পর, কাগজে লেখা তার সেই গবেষণাপত্র বিজ্ঞানের ভিত্তি নড়িয়ে দিয়েছিল। আজকের বিশ্ব যাকে থিওরি অফ রিলেটিভিটি বলে জানে, সেই আপেক্ষিকতাবাদের তত্ত্ব লেখা হয়েছিল ঝর্ণা কলমেই।
কলম, কালি, মন – লেখে তিন জন:
কয়েক দশক আগেও বাড়ির বড়রা এমনই উপদেশ দিয়ে ছোটদের হাতে ধরিয়ে দিতেন ঝর্ণা কলম। স্কুলে ভর্তি হওয়ার কয়েক বছর পর কচি হাতে পেন্সিল ততদিনে বেশ সড়গড় হয়ে গিয়েছে। এবার নিচু ক্লাসের ছেলেমেয়েদের উত্তেজনা বাড়াতে শুরু করত ক্রমশ এগিয়ে আসা কলম ব্যবহারের দিন। ঝর্ণা কলমে লেখা মানে হাতের লেখা সুন্দর হবে, এমন ধারণার বশবর্তী হয়ে সদ্য হাতে পাওয়া পেন দিয়ে সেখানে সুযোগ পেলেই কিছু একটা লিখে বেশ খুশি হয়ে পড়ত ছোটরা।