অপরিচিতাকে বাঁচাতে গিয়ে জীবনদান মেধাবী ছাত্রের, সন্তানকে হারিয়ে বুকফাটা কান্না মায়ের

বাংলাদেশের ভরতখালী গ্রামের দর্জি জাহিদুলের ছেলে সাইফুল ইসলাম। গাইবান্ধা সদর উপজেলার ফুলছড়ি উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নে তাদের পূর্বপুরুষদের বাসস্থান ছিল। কিন্তু নদীভাঙনে ঘরবাড়ি হারিয়ে ছয় বছর আগে জাহিদুল পরিবার ভরতখালী গ্রামে এসে পাঁচ শতক জমি কিনে বসবাস শুরু করেন।
সাইফুল ছোটবেলা থেকেই মেধাবী ছিল। এসএসসি ও এইচএসসিতে জিপিএ ৫ পেয়ে সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য আবেদন করে। কিন্তু দারিদ্র্যের কারণে ভর্তি সংক্রান্ত খরচ জোগাতে না পেরে সে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
জাহিদুল বলেন, “ছেলেটা অনেক মেধাবী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পেলে অনেক ভালো কিছু করতে পারত। কিন্তু আমাদের দারিদ্র্যের কারণে তার স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে না।”
এদিকে, গাইবান্ধা শহরের মাঝিপাড়া এলাকার আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী রাজিয়া দেড় বছরের ছেলে আবির হোসেনকে কোলে নিয়ে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিতে যান। পারিবারিক কলহের জেরেই তিনি এই পদক্ষেপ নেন।
সেই সময়ে ওই এলাকা দিয়ে হেঁটে আসছিলেন জোবায়েব। ঘটনাটি দেখে তিনি দ্রুত ঝাঁপিয়ে পড়ে রাজিয়া ও আবিরকে উদ্ধার করার চেষ্টা করেন।
জোবায়েবের সাহসী পদক্ষেপে আবির বেঁচে গেলেও রাজিয়া ও জোবায়েবের মৃত্যু হয়।
এই দুটি ঘটনা আমাদের সমাজের বেদনাদায়ক দিক তুলে ধরে।একদিকে মেধাবী শিক্ষার্থী দারিদ্র্যের কারণে উচ্চশিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, অন্যদিকে পারিবারিক কলহের জেরে একজন মা ছেলেকে নিয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছেন।এই বেদনার অবসান ঘটাতে আমাদের সকলকেই সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল হতে হবে।