‘বেটি পরায়া ধন’ এখন অতীত! সরকারি তথ্যে চমকে দিলো ‘লক্ষ্মীরাই’

আগেকার সময়ে, ‘মেয়ে মানেই পরের ধন’, ‘বংশের দীপ জ্বালাবে কেবল ছেলেরাই’, ‘ছেলেরাই বংশের ধ্বজাধারী’ এই ধারণাগুলি প্রচলিত ছিল।
কন্যাভ্রূণ হত্যা, শ্বশুরবাড়িতে নির্যাতন, পুত্র সন্তানের প্রতি অতিরিক্ত আকাঙ্ক্ষা – এই সমস্যাগুলি সমাজে বহুদিন ধরে বিদ্যমান।
সাম্প্রতিক সময়ে, ‘কার্তিক’-এর পাশাপাশি ‘মা লক্ষ্মীর’-ও আগমনকে স্বাগত জানানোর প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।সরকারি তথ্য অনুসারে, দত্তক নেওয়ার ক্ষেত্রে মেয়েদের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
কারণ:
আইনি নিষেধাজ্ঞা ও সচেতনতা বৃদ্ধির ফলে কন্যাভ্রূণ হত্যা কমেছে।শিক্ষিত সমাজে মেয়েদের প্রতি গুরুত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে।নারীর ক্ষমতায়নের ফলে সমাজে তাদের অবদানের গুরুত্ব স্বীকৃত হচ্ছে।
পরিসংখ্যান:
২০২১-২৩ সালে, মোট ১১টি রাজ্যে ১৫,৪৮৬ জন শিশুকে দত্তক নেওয়া হয়েছে।
এর মধ্যে ৯৪৭৪ জন মেয়ে এবং ৬০১২ জন ছেলে।
পঞ্জাব, তামিলনাড়ু, দিল্লি, উত্তরাখণ্ড, অন্ধ্র প্রদেশ, ওড়িশা, পশ্চিমবঙ্গ – এই রাজ্যগুলিতে মেয়েদের দত্তক নেওয়ার হার ছেলেদের চেয়ে বেশি।
এই প্রবণতা সমাজের মেয়েদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনের প্রতীক।এটি লিঙ্গ সমতা ও নারীর ক্ষমতায়নের দিকে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ।
সীমাবদ্ধতা:
সামগ্রিকভাবে ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের দত্তক নেওয়ার হার এখনও কম।গ্রামাঞ্চলে পুরনো ধারণাগুলি এখনও প্রচলিত।
আশার আলো:
দত্তক নেওয়ার ক্ষেত্রে মেয়েদের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি সমাজের ভবিষ্যতের জন্য আশার আলো দেখায়।সচেতনতা বৃদ্ধি ও নারী শিক্ষার প্রসার এই প্রবণতাকে আরও ত্বরান্বিত করতে পারে।
সরকারের পক্ষ থেকে মেয়েদের জন্য বিভিন্ন সুবিধা ও প্রকল্প এই প্রবণতাকে আরও সমৃদ্ধ করতে পারে।সমাজের সকল স্তরের মানুষের মধ্যে লিঙ্গ সমতা ও নারীর ক্ষমতায়নের বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি।এই পরিবর্তন সমাজের জন্য একটি ইতিবাচক লক্ষণ।