“অতি ভয়ানক তোলাবাজি?”-নির্বাচনী বন্ড নিয়ে মুখ খুললেন TMC নেতা

সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড় নির্বাচনি বন্ডকে অস্বচ্ছ ও অনৈতিক বলে সমালোচনা করেছিলেন। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন যে এটি বৃহৎ শিল্প গোষ্ঠীগুলিকে সরকারি সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করার ক্ষমতা দিতে পারে এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে দূষিত করতে পারে।
স্টেট ব্যাংক কর্তৃক প্রকাশিত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে বেশ কিছু সংস্থা ইডির তদন্তের মুখোমুখি হওয়ার পর তড়িঘড়ি নির্বাচনি বন্ড কিনেছে এবং এরপর তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়াও, বন্ড কেনার পর বিপুল অঙ্কের কেন্দ্রীয় সরকারি কাজের বরাত পাওয়া সংস্থাগুলির তথ্যও সামনে এসেছে।
স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার (এসবিআই) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচনী বন্ড থেকে সবচেয়ে বেশি আয় করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। গত ১৫ মার্চের তথ্য অনুযায়ী, বন্ড থেকে বিজেপির আয় ছিল ৬,০৬০ কোটি টাকা। কিন্তু গতকাল প্রকাশিত নতুন তথ্য অনুযায়ী, তাদের আয় বেড়ে ৬,৯৮৬.৫ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।
তৃণমূল ও কংগ্রেসের অবস্থান:
আয়ের নিরিখে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)। তাদের বন্ড থেকে আয়ের পরিমাণ ১,৩৯৭ কোটি টাকা। এরপরই রয়েছে কংগ্রেস, যাদের বন্ড থেকে আয় ১,৩৩৪ কোটি টাকা।
তৃণমূল নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘এর আগেও আমাদের দল বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের চাঁদা বা অনুদান গ্রহণ করেছে এবং নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, সেই তথ্য জানিয়েছে। পার্টি চালানোর জন্য যেভাবে অনুদান গ্রহণ করা হয় ঠিক তেমনটাই। বন্ড থেকে একটা সামান্য অংশ পেয়েছে তৃণমূল। আমাদের কাছে কোনওরকম তোলাবাজির রাস্তা ছিল না।’
জয়প্রকাশ মজুমদার আরও বলেন, ‘বন্ড চালু হওয়ার প্রথম পাঁচদিনেই বিজেপি ২৫০ কোটি টাকা ভাঙিয়েছে। তখন কেউ জানতই না এটা খায় না গায়ে মাখে। SBI-কে দোসর করে নির্বাচন কমিশনকে অন্ধকারে রেখে গেরুয়া শিবির এমনটা করেছে। এ পর্যন্ত যে তথ্য সামনে এসেছে তাতে দেখা যাচ্ছে সাড়ে ১৬ হাজার কোটি টাকা ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে প্রায় অর্ধেক সুচতুরভাবে নিজেদের কালেকশন করে গিয়েছে। অতি ভয়ানক তোলাবাজি পদ্ধতি নিয়েছিল ওরা। সুপ্রিম কোর্ট না বললে এটা বন্ধ হত না বা প্রকাশ্যে আসত না।’
তথ্যসূত্র: এই সময় ডিজিটাল