CAA-তে কেন নেই মুসলিমরা? জবাবে কংগ্রেসকে বিঁধলেন অমিত শাহ, জেনেনিন কি বললেন?

সোমবার থেকে গোটা দেশে কার্যকর হয়েছে সিএএ বা নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন। এরপর থেকেই দেশজুড়ে তীব্র বিতর্কের ঝড় উঠেছে। বিরোধী দলগুলি একযোগে এই আইনের বিরোধিতা করছে।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সিএএ-র তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, ‘সিএএ-র সঙ্গে এনআরসি-র সম্পর্ক রয়েছে।’ মমতা আরও স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘বর্ণবৈষম্যের সিএএ আমি মানি না।’

সিএএ-তে কেন নেই মুসলিমরা? অমিত শাহ বলেন, ‘দেশের একটা ইতিহাস আছে। ১৯৪৭ সালের ১৭ অগাস্ট দেশ ভাগ হয়েছিল। ৩ ভাগে ভাগ হয়ে যায় দেশ। ভারতীয় জনসংঘ ও ভারতীয় জনতা পার্টি সবসময় বিভাজনের বিরোধিতা করেছে। ধর্মের ভিত্তিতে দেশের বিভাজন হওয়াই উচিত ছিল না। কিন্তু সেই সময় করা হয়। ধর্মের ভিত্তিতে যখন বিভাজন হয়েছে এবং সেখানকার সংখ্যালঘুদের উপে অত্যাচার হয়েছে, জোর করে ধর্ম পরিবর্তন করান হয়েছে, মহিলাদের অপামান করা হয়েছে। তাঁরা ভারতের শরণে আসেন, তাহলে কি তাঁদের নাগরিকত্বের অধিকার নেই?’

অমিত শাহের কথায় উঠে আসে কংগ্রেসের প্রসঙ্গ। তিনি বলেন, ‘কংগ্রেসের নেতারা স্বাধীনতার সময় বহু ভাষণে বলেছেন যে, এখন মারামারি চলছে, তাই আপনারা যেখানে আছেন সেখানেই থাকুন, পরে যখনই ভারতে আসবেন, আপনাদের স্বাগত। পরে ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতি চালু হয়ে যায়। সেই প্রতিশ্রুতি কংগ্রেস কখনও পূরণ করেনি, নরেন্দ্র মোদী পূরণ করেছেন।’

সিএএ কার্যকর হয় টাইমিং নিয়ে মুখ খুললেন শাহ। বলেন, ‘কংগ্রেসের রাহুল গান্ধী, আপের অরবিন্দ কেজরিওয়াল, তৃণমূলের মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায় সহ বিরোধীতা সিএএ ইস্য়ুতে মিথ্যা রাজনীতি করছেন। ২০১৯ সালেই ভারতীয় জনতা পার্টি ইস্তেহারে ক্ষমতায় ফিরলে সিএএ কার্যকর হবে বলে ঘোষণা করেছিল। পাকিস্তান, আফগানিস্তান, বাংলাদেশের শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। ২০১৯ সালেই বিল পাশ হয়ে যায়। তারপর তা কার্যকর হতে দেরি হয় কোভিড মহামারীর কারণে। সরকারের এই বিল ভোটের অনেক আগেই পাশ হয়েছে। আমি এর আগেও একাধিকবার বলেছি সিএএ দেশে কার্যকর ভোটের আগেই। এখন আলাদা করে কি করে প্রশ্ন উঠছে সিএএ কার্যকর হওয়ার সময় নিয়ে? সিএএ ভারতীয় জনতার পার্টির জন্য রাজনীতির বিষয় নয়। ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর ভারতে আশ্রয় নেওয়া শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। তাই এখানে সময়ের প্রশ্ন অকারণেই তোলা হচ্ছে।’